সীমান্তে চীনা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে? অরুণাচল নিয়ে বড় দাবি করল বেইজিং!

অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চীন সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যেই মুখ খুলল বেইজিং। সীমান্তে চীনা সেনাদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির খবর নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন চীন দাবি করল যে পরিস্থিতি বর্তমানে ‘স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল’। বুধবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই বিবৃতি দেন।
ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সীমান্তের কাছে চীনা সেনাদের অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চীনের মুখপাত্র সরাসরি সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, বরং দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ওপরই জোর দিয়েছেন।
শান্তি ফেরাতে কি একমত দুই দেশ?
চীনের মুখপাত্র গুও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর ৩৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উভয় দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বিবৃতির একদিন আগেই ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, দুই দেশের সার্বিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
অরুণাচল নিয়ে চীনের পুরনো জিদ
চীন বরাবরই অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অংশ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে আসছে, যা ভারত ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। সাম্প্রতিককালে অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় চীন যে আপত্তি জানিয়েছিল, তার জবাবে ভারত সাফ জানিয়েছে—অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। এই অমোঘ বাস্তব কেউ কোনোদিন বদলাতে পারবে না।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত-চীন সম্পর্কে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেপসাং ও ডেমচকের বিতর্কিত এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এরপর কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষীণ আশা দেখা দিলেও, অরুণাচল প্রদেশ ও এলএসি বরাবর উত্তেজনা এখনও দুদেশের মধ্যে আস্থার বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।