সকালে উঠেই পায়ে কারেন্টের মতো শট লাগছে? অবহেলা করলেই পস্তাবেন, আসল কারণটা জানেন তো?

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই কি মনে হচ্ছে পায়ের মধ্যে দিয়ে কারেন্ট বয়ে যাচ্ছে? হাঁটতে গেলেই কোমর থেকে টান মেরে সেই ব্যথা সোজাসুজি চলে যাচ্ছে পায়ের আঙুল পর্যন্ত? এই ধরনের সমস্যায় অনেকেই প্রথমে ভাবেন হয়তো পায়ে মোচড় লেগেছে কিংবা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য এক কারণ। শরীরের ভেতরে থাকা সায়াটিক নার্ভে অতিরিক্ত চাপ পড়ার ফলেই এই মারাত্মক যন্ত্রণা শুরু হয়।
কী এই সায়াটিকা সমস্যা?
আমাদের কোমরের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্ক বয়সের ভারে, ভারী জিনিস তোলার ফলে কিংবা দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকার অভ্যাসের কারণে সরে যায়। আর তখনই তা শরীরের দীর্ঘতম নার্ভ অর্থাৎ সায়াটিক নার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। ফলে শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা। এটি সাধারণ কোনো পেশির ব্যথা নয়, এটি হলো নার্ভের ব্যথা (Nerve Pain), যে কারণে সাধারণ ব্যথার ওষুধে এই যন্ত্রণা সহজে কমতে চায় না।
যে ৫টি লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনি সায়াটিকায় আক্রান্ত:
১. একদিকের পায়ে ব্যথা: সাধারণত এই ব্যথা কোমর বা নিতম্ব থেকে শুরু হয়ে থাই ও হাঁটুর পেছন দিয়ে সোজা পায়ের পাতা পর্যন্ত নেমে যায়। তবে দুটো পায়ে একসঙ্গে এই ব্যথা খুব কমই হয়।
২. শক লাগার মতো অনুভূতি: পায়ে যেন কেউ সুই ফোটাচ্ছে, পিঁপড়ে কামড়াচ্ছে, কিংবা আগুন জ্বলছে—এমন জ্বালাপোড়া বা শক লাগার মতো ব্যথা অনুভূত হয়।
৩. বড়লে বা কাশলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি: একটানা ১০ মিনিট চেয়ারে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি সামান্য হাঁচি বা কাশি দিলেও কোমরে তীব্র মোচড় দিয়ে ওঠে।
৪. পা ঝিমঝিম ও অবশ ভাব: পায়ে কোনো জোর পাওয়া যায় না। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে কিংবা পায়ের আঙুল ওড়াতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়।
৫. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে শোওয়ার সময় যে পাশে ব্যথা রয়েছে, সেই পাশ ফিরে শুলেই যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যায়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন ও কী করণীয়?
যদি এই ব্যথা একটানা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, পা অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা ধরে রাখতে সমস্যা দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে অবিলম্বে নিউরোলজিস্ট বা অর্থোপেডিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ নির্ণয়ের জন্য এমআরআই (MRI) করার প্রয়োজন হতে পারে।
ঘরে বসেই যা করবেন:
একটানা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকবেন না। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর উঠে অন্তত ২ মিনিট হাঁটুন।
মাটি থেকে কোনো ভারী জিনিস তোলার সময় সরাসরি কোমর বাঁকাবেন না, বরং হাঁটু ভেঙে তুলুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হালকা স্ট্রেচিং যেমন “Piriformis Stretch” এবং “Knee to Chest” এক্সারসাইজ করতে পারেন, যা বেশ উপশম দেয়।
ব্যথার প্রথম দুই দিন ঠান্ডা সেঁক এবং পরবর্তী সময়ে গরম সেঁক ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সায়াটিকায় আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। সঠিক ওষুধ এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমেই এই সমস্যা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। তাই পায়ের এই টুকিটাকি ব্যথাকে কখনই হালকাভাবে নেবেন না, কারণ এর আসল ‘রিমোট কন্ট্রোল’ লুকিয়ে রয়েছে আপনার কোমরেই।