NRS-এর শৌচালয়ে নার্সের রহস্যমৃত্যু! ফেন্টানিলের ভায়াল নিয়ে ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল?

এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শৌচালয় থেকে এক নার্সের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পরেই কেন তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী সিনথেটিক ওপিওড ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ওই নার্স নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি মেদিনীপুরে হলেও স্বামীর সঙ্গে তিনি দমদমে থাকতেন। প্রায় দশ মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি নার্সিংয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেছিলেন।
ঘটনার রাতে ঠিক কী হয়েছিল?
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই নার্স রাত আটটায় হাসপাতালে নিজের কাজে যোগ দেন। সহকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত দশটা কুড়ি মিনিট থেকে দশটা সাতাশ মিনিটের মধ্যে তিনি শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বাইরে থেকে অনেকবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। উপায় না পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ফেন্টানিল
শৌচালয় থেকে উদ্ধারের পর জানা যায়, ওই নার্স সঙ্গে করে ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে ভেতরে গিয়েছিলেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা কমানো বা অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে অবশ করার কাজে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি মরফিনের চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ থেকে একশ গুণ এবং হেরোইনের চেয়ে পঞ্চাশ গুণ বেশি শক্তিশালী একটি সিনথেটিক ওষুধ। তিনি কেন এই ওষুধ নিয়ে শৌচালয়ে ঢুকেছিলেন এবং কেউ তাঁকে তা নিয়ে ঢুকতে দেখেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
এই ঘটনার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনাস্থলে আসেন অ্যাডিশনাল সিপি এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। শৌচালয়টিকে ইতিমধ্যেই ক্রাইম সিন হিসেবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশের হোমিসাইড শাখাও। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।