ফের ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে ওরাকল! সেপ্টেম্বরের আগেই কোপ পড়তে চলেছে হাজার হাজার কর্মীর চাকরি

চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষেই প্রায় ২১,০০০ কর্মী ছাঁটাই করে বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল জনপ্রিয় প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকল (Oracle layoffs)। সেই সময় এই বড়সড় ছাঁটাই পর্ব নিয়ে প্রযুক্তি মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল। আর এবার সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ার পালা! বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, আসন্ন সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিক শুরু হওয়ার আগেই ফের একবার ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে এই টেক জায়ান্ট। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া এবং এআই এজেন্ট (AI Agent) নিয়োগের পাশাপাশি কোম্পানির অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কেট বিশেষজ্ঞরা।
কাদের ওপর পড়তে চলেছে ছাঁটাইয়ের কোপ?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিজনেস ইনসাইডার’-এর প্রতিবেদন ও তা উদ্ধৃত করে এনডিটিভি (NDTV)-র প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কোম্পানির উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা পৌঁছে গেছে বিভিন্ন বিভাগের ম্যানেজারদের কাছে। প্রতিটি বিভাগ থেকে ছাঁটাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মীর তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। অনেক টিমেই দুই সংখ্যার বেশি শতাংশে (Double-digit percentage) কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সূত্র মারফত এও জানা যাচ্ছে যে, ঠিক কত শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হবে, সেই বিষয়ে ম্যানেজমেন্টের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমান কর্মী সংখ্যা ও ভারতের ওপর প্রভাব
এর আগে বিশ্বজুড়ে তাদের প্রায় ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার পর বর্তমানে ওরাকলে মোট ১,৪১,০০০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংখ্যাটি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। প্রযুক্তি বাজারে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর একটি বড় প্রভাব ভারতে থাকা ওরাকলের অফিস ও কর্মীদের ওপরও পড়তে পারে। বর্তমানে টেক জায়ান্টরা যেভাবে প্রথাগত কাজের পরিবর্তে পুরোপুরি AI-নির্ভর এবং অটোমেটেড সিস্টেম চালুর দিকে ঝুঁকছে, তাতে কর্মীদের চাকরি নিয়ে এই অনিশ্চয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
কেন বারবার এই পথে হাঁটছে ওরাকল?
কোম্পানির লেটেস্ট আর্থিক পরিসংখ্যান ও ব্যালেন্স শিট বলছে, ২০২৬ অর্থবর্ষে ওরাকল তাদের পরিকাঠামো নির্মাণে রেকর্ড ৫৫.৭ বিলিয়ন ডলার বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে। এর মধ্যে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Cloud Infrastructure) গড়ে তোলার পেছনে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ঋণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ কোম্পানির আরও ১.৮৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এআই এবং ক্লাউড বিজনেসে বিশাল বিনিয়োগের খরচ সামাল দিতেই ম্যানেজমেন্ট বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খরচ বাঁচানোর কৌশল নিয়েছে।
বাকি টেক জায়ান্টদের ছবিটাও এক
উল্লেখ্য, এই সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের জল্পনা ও গুঞ্জন নিয়ে এখনও পর্যন্ত ওরাকল কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই কোম্পানির তরফ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও শুধু ওরাকল একা নয়, বর্তমান সময়ে এই পথে হাঁটছে গোটা টেক ইন্ডাস্ট্রি। এর আগে মেটা (Meta), অ্যামাজন (Amazon), মাইক্রোসফট (Microsoft) এবং গুগল ক্লাউড (Google Cloud)-এর মতো একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থাও বড় অঙ্কের কর্মী ছাঁটাই করেছে। মূলত ব্যবসার সমস্ত ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যাপক ব্যবহার বাড়ার ফলেই এই ট্রেন্ড গোটা প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে।