“৪ লাইনে শেষ করলে হবে না!” পাঠ্যপুস্তকে ক্ষুদিরাম বসুর ইতিহাস নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এতদিন পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাসে শহিদ ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কে মাত্র কয়েকটি তথ্য বা ছোট্ট একটি অনুচ্ছেদই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার থেকে বদলাতে চলেছে সেই চিত্র। একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর— প্রত্যেকটি ক্লাসের সিলেবাসে এবার যুক্ত হতে চলেছে বাংলার অমর স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর সংগ্রামী জীবনের এক দীর্ঘ ও বিস্তারিত অধ্যায়।

মঙ্গলবার শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে তাঁর জন্মভিটে মোহবনিতে হাজির হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সিলেবাসে ৪ লাইনে শেষ করলে চলবে না: মুখ্যমন্ত্রী
শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করার পর এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানান যে, এতদিন পাঠ্যপুস্তকে এই বীর শহিদের প্রতি যথেষ্ট ন্যায়বিচার করা হয়নি। অতীতে কেবল ষষ্ঠ, সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জন্ম, মৃত্যু ও সামান্য কিছু ভূমিকার কথা উল্লেখ থাকত। প্রাথমিক স্তর কিংবা উচ্চশিক্ষার স্তরে তাঁর জীবনী সেভাবে পড়ানো হতো না।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন,

“সিলেবাসে মাত্র চার লাইনে ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে বলা শেষ করলে হবে না। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে এবার একটি সম্পূর্ণ ও দীর্ঘ অধ্যায় থাকতে হবে।”

বাম আমল ও মেদিনীপুরের বঞ্চনা নিয়ে তীব্র আক্রমণ
এদিনের সভা থেকে পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ৩৪ বছরের বাম আমলে মেদিনীপুরের সঠিক ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়ানোর ইতিহাস পড়ানো হলেও মেদিনীপুরের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানকে সুকৌশলে আড়ালে রাখা হয়েছিল।

মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসাবে নিজের ক্ষোভ ও অনুভূতির কথা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন:

“এতদিন মেদিনীপুর বঞ্চিত ছিল। প্রায় ৪৯ বছর ধরে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।”

“প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চাই। মেদিনীপুরের একজন ভূমিপুত্র হিসাবে আমি এখানকার মানুষের জন্য বড় কিছু করতে চাই।”

মোহবনি গ্রাম ও ক্ষুদিরামের জন্মভিটের জন্য বিশেষ অনুদান
শুধু পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তিই নয়, শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটের আমূল সংস্কারের পাশাপাশি ওই এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বড় আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানান যে, ‘মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদ’ (Mohabani Development Board)-কে উন্নয়নের স্বার্থে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এর ফলে ওই এলাকার পরিকাঠামো আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এদিন কেশপুরে মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় আবহাওয়া খারাপ থাকায় কোলাঘাটে তাঁর কপ্টারের জরুরি অবতরণ করাতে হয়েছিল। কপ্টার বিভ্রাটের সেই বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সড়ক পথেই কেশপুরে পৌঁছন তিনি এবং এই ঐতিহাসিক ঘোষণাগুলি করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *