গর্ভপাত অধিকার বিরোধী মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক! তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকারের বক্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল

তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। গত ৮ ও ৯ আগস্ট চেন্নাইয়ের স্টেলা মারিস কলেজে আয়োজিত ৫ম ‘ন্যাশনাল মার্চ ফর লাইফ’ (National March for Life)-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন স্পিকার। মাদ্রাজ-মাইল্লাপুর আর্চডায়োসিস কর্তৃক আয়োজিত এই সমাবেশে প্রায় ৫,০০০-এর বেশি মানুষ অংশ নেন। মূলত গর্ভপাত অধিকারের বিরোধিতা এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের সুরক্ষার দাবিতে এই ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে গর্ভপাত বিরোধী কঠোর আইন ‘মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি’ (MTP) অ্যাক্টের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করা হয়।

স্পিকারের বিতর্কিত মন্তব্য
পিটিআই সূত্রে খবর, সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্পিকার জেসিডি প্রভাকর মন্তব্য করেন যে, “জীবন শুরু হয় গর্ভধারণ থেকেই।” তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে চলা গর্ভপাত বিরোধী মতাদর্শের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই মন্তব্যের পরই রাজ্যে বড় ধরণের রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে জি অরুণরাজের স্পষ্টীকরণ
বিতর্ক বাড়ার পর গত সোমবার পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে জি অরুণরাজ। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস/বিডিএস র‍্যাংক লিস্ট প্রকাশের জন্য আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, অনেক সময় চিকিৎসা বিজ্ঞানের খাতিরে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গর্ভপাত একটি বাধ্যতামূলক চিকিৎসা প্রয়োজন (medical necessity) এবং এটি জাতীয় আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

স্পিকারের বক্তব্যের দায় এড়িয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি না কোন প্রেক্ষাপটে মাননীয় বিধানসভার স্পিকার ওই মন্তব্য করেছেন। অনুগ্রহ করে কেউ এটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করবেন না।” তিনি আরও জানান, দেশে মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (MTP) আইন অনুযায়ী বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী নারীরা ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত আইনিভাবে গর্ভপাত করাতে পারেন। স্পিকারের ব্যক্তিগত মতামতের সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং আইনি বিধানকে গুলিয়ে না ফেলার আর্জিও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *