‘গাঁজা চাষ করতেন পূর্বপুরুষেরা’,-পদবির রহস্য ফাঁস করে কোন গল্প শোনালেন কুণাল!

চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ গায়ক কুণাল গঞ্জাওয়ালা। সুমধুর কণ্ঠস্বরে হিন্দি ও বাংলার বহু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন কোটি কোটি শ্রোতার মন। তবে তাঁর অসাধারণ গায়কীর পাশাপাশি তাঁর পদবি— ‘গঞ্জাওয়ালা’ নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ভক্তদের একাংশের মধ্যে এ নিয়ে কৌতূহল যেমন রয়েছে, তেমনই বহুবার নানা রসিকতা বা ঠাট্টার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাঁকে। আর এবার সেই পদবির পেছনের আসল রহস্য এবং পরিবারের পুরনো এক ঐতিহাসিক পেশার কথা প্রকাশ্যে আনলেন স্বয়ং গায়ক।

ব্রিটিশ আমলের গাঁজা চাষ ও ‘রাও সাহেব’ উপাধি

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কুণাল গঞ্জাওয়ালা জানান, তাঁর এই অদ্ভুত পদবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের এক সুপ্রাচীন ইতিহাস। তাঁর দাবি, ব্রিটিশ শাসনকালে তাঁর পূর্বপুরুষেরা চিকিৎসার প্রয়োজনে সরকারি নিয়ম মেনেই গাঁজা চাষ করতেন। সেই সময় এই চাষ সম্পূর্ণ আইনি ছিল এবং সরকারি ব্যবস্থার অধীনেই তা পরিচালিত হতো।

১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনেরও বহু আগে থেকে তাঁর পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন কুণাল। উৎপাদিত সেই গাঁজা সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের কাছে সরবরাহ করা হতো এবং এর বিনিময়ে তাঁর পরিবার কর-ছাড় বা বিশেষ সুবিধাও পেত। শুধু তাই নয়, সেই সময় তাঁদের পরিবারকে ব্রিটিশদের তরফে মর্যাদাপূর্ণ ‘রাও সাহেব’ উপাধিতেও ভূষিত করা হয়েছিল বলে জানান গায়ক।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট ছিলেন পূর্বপুরুষেরা

কুণালের দাবি অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই যুগে সাধারণ চাষি ছিলেন না, বরং তাঁরা প্রত্যেকেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট হিসাবে স্বীকৃত ছিলেন। চিকিৎসার কাজে বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক বা প্রয়োজনীয় ওষুধ তৈরির জন্যই সেই সময় এই ভেষজ উৎপাদন করা হতো। তবে পরবর্তীতে ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ঠিক আগেই ব্রিটিশ জমানায় সেই ব্যবসার অবসান ঘটে।

পদবি নিয়ে ট্রোল ও মজার অভিজ্ঞতা

পরিবারের এই ঐতিহাসিক পরিচয় প্রকাশ্যে এলেও আজও নানা জায়গায় এই পদবির জন্য মজার বা অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় গায়ককে। অনেকেই কৌতূহলবশত তাঁর পদবির মানে জানতে চান, আবার কেউ কেউ সরাসরি মজা করে বলে ওঠেন— ‘‘গাঁজেওয়ালা, মাল আছে?’’ তবে এই সমস্ত রসিকতা বা ট্রোলকে হাসিমুখেই উড়িয়ে দেন গায়ক। কুণাল জানিয়েছেন, এমন অদ্ভুত প্রশ্ন শুনলে তিনি সকালেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বা মাদক সেবন করেন না।

উল্লেখ্য, বালোচি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কুণাল গঞ্জাওয়ালা নিজের শিকড় ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই আজও বিনোদন দুনিয়ায় নিজের সার্থক পরিচয় তৈরি করে চলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *