“শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করা যায় না!” ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি দমনপীড়নে সরব রাহুল গান্ধী

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তীব্র হতে থাকা ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এবার মুখ খুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাজ্যে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-র নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল হওয়া সত্ত্বেও, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
কী বললেন রাহুল গান্ধী?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি লেখেন, “শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ঝাড়খণ্ড সরকারের উচিত লাগাতার শিক্ষার্থীদের কথা শোনা এবং তাদের দাবিগুলি অবিলম্বে সমাধান করা।”
বিধানসভার সামনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি
সোমবার বিকেল গড়াতেই ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে বিশাল মিছিল করে এগিয়ে যান হাজার হাজার ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। সমস্ত আইনি ও পুলিশি বাধা অতিক্রম করে তারা বিধানসভা ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলন থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করলেও পিছু হঠেননি শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি হওয়ার আগে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী তথা জেএমএম নেতা সুদিব্য কুমার প্রধান প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শাণান। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা করছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরব রাহুল
এর আগে সামাজিক মাধ্যমে এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেছিলেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা এই ছাত্র আন্দোলন মূলত ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহির্প্রকাশ। তাঁর মতে, কংগ্রেস, কেন্দ্র কিংবা ঝাড়খণ্ড— যে সরকারই হোক না কেন, সবারই উচিত শিক্ষার্থীদের কথা শোনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসা।
পাশাপাশি, দিল্লিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কৈফিয়ত তলব করেছেন রাহুল গান্ধী। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরকারের দেওয়া সাফাই বা ‘কল্পকাহিনিতে’ বিরোধীরা যে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।