৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থেকে ক্যালোরি নীতি বদল! রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে নবান্নে বড় আপডেট

মুখ্যমন্ত্রীর আসনে আসীন হয়েই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি কথা দিয়েছিলেন, সরকার গঠিত হলেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কমিশন ও বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হলো সপ্তম বেতন কমিশন কমিটির প্রথম বৈঠক। আর প্রথম দিনের বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে গেল, সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে কতটা তৎপর নতুন সরকার।
প্রথম বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ দিনের বৈঠকে কমিশনের আগামী দিনের কাজের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। খুব শীঘ্রই এই পোর্টালটি সর্বসমক্ষে আনা হবে। নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, কমিশনের যাবতীয় কাজকর্ম, অগ্রগতির আপডেট এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ওই ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশিত হবে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ঘরে বসেই বেতন কাঠামো সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট দেখতে পাবেন।
ইনক্রিমেন্ট থেকে ন্যূনতম বেতন: কমিশনের বড় প্রস্তাব
দিন কয়েক আগেই সপ্তম বেতন কমিশনের বিভিন্ন শর্তাবলি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নবান্ন। নতুন নির্দেশিকায় এমন কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটবে। উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলি হলো:
-
ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি: বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
-
কেন্দ্রীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য: দীর্ঘদিন ধরে চলা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে নতুন বেতন কাঠামোয় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
-
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের নিয়মে বদল: এখন থেকে ৫ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন স্থির করা হবে।
-
পুষ্টির মানদণ্ডে পরিবর্তন: আগে দৈনিক ২,৭০০ ক্যালোরিকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হলেও, তা বাড়িয়ে এবার দৈনিক ৩,৪৯০ ক্যালোরি করা হয়েছে। এর ফলে ন্যূনতম বেতনের অঙ্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বাজারদর এবং মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে খুব দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।