‘একটা হিট দেওয়ার পরেও কেউ কাজ দেয়নি!’ কেন বলিউডে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন অনিল কাপুরের ভাই?

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম কালজয়ী এবং রোমান্টিক ছবি ‘সিরফ তুম’ (Sirf Tum)। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবি বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল। সুস্মিতা সেনের বিপরীতে এই ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি স্টার হয়ে উঠেছিলেন সঞ্জয় কাপুর। তাঁর অভিনয় ও ছবির গান আজও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেই প্রথম সারির সাফল্য আর ধরে রাখতে পারেননি অভিনেতা। কেন এমনটা হলো? সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সেই অতীতেরই পর্দাফাঁস করলেন সঞ্জয়।

‘সবাই ভেবেছিল আমি বড় প্রজেক্টে সই করব’

সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় কাপুর জানান, ‘সিরফ তুম’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির পরেও তাঁর কেরিয়ারে এক অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, অনেকেই ভেবেছিলেন এরপর তিনি বুঝি একের পর এক বিশাল বাজেটের ছবিতে সই করবেন। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

অভিনেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, “ছবিটা এত হিট হয়েছিল যে বহু বছর পরেও তার রেশ থেকে গিয়েছে। কিন্তু আমার কপাল দেখুন, এরপর আমি একটাও ভালো ছবিতে সই করতে পারিনি। বর্তমান সময়ে কেউ পরপর তিনটে হিট দিলে তাঁর কেরিয়ার ২৫ বছরের জন্য সেট হয়ে যায়, প্রচুর বিজ্ঞাপনের অফার আসে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো হয়েছিল।”

কেন হাতছাড়া হয়েছিল ভালো কাজ?

সঞ্জয়ের মতে, ছবিটির তুমুল প্রশংসার পরেও কেন যে পরিচালকরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তা তাঁর কাছে আজও এক রহস্য। তাঁর কাছে কিছু অফার এলেও চিত্রনাট্যগুলো খুব একটা মনের মতো ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন, যেহেতু তিনি একটি হিট ছবি উপহার দিয়েছেন, তাই আরও ভালো কাজের জন্য একটু অপেক্ষা করা উচিত।

তবে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের ভুল ধারণাই তাঁর কেরিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করেন অভিনেতা। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই ধারণা ছিল যে সঞ্জয় হয়তো এখন অনেক বেশি পারিশ্রমিক দাবি করবেন কিংবা তিনি শুধুমাত্র বড় কোনো ব্যানারের সিনেমার জন্যই অপেক্ষা করছেন। এই ভ্রান্ত ধারণার কারণেই নির্মাতারা তাঁর কাছে চিত্রনাট্য নিয়ে যাওয়া কমিয়ে দেন। ফলে সাফল্যের শিখরে থেকেও কাজ পাওয়ার জন্য তাঁকে দীর্ঘদিন কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল। এমনকি পরিবারে অনিল কাপুর ও বনি কাপুরের মতো দুই ভাই সফল হলেও, কেরিয়ারের শুরুর দিকে সঞ্জয়কে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *