বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চক্রান্ত! এফসিআরএ বিল ও অযোধ্যা অনুদান বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক সমাজবাদী পার্টির প্রধান

চলমান সংসদীয় অচলাবস্থার মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির (SP) সভাপতি তথা সাংসদ অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। অযোধ্যার রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান তছরুপের বিতর্ক এবং সদ্য আনীত এফসিআরএ (FCRA) সংশোধনী বিল নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অখিলেশের দাবি, দেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে অবিলম্বে সংসদে বিশেষ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

রাম মন্দির অনুদান ও বিশ্বাস নিয়ে তোপ

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, মাত্র আর কিছুদিন বাকি রয়েছে, অথচ সরকার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি বা তছরুপের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনাই করতে চাইছে না। তাঁর অভিযোগ, পবিত্র এই মন্দিরে পূজার সামগ্রী ও দানের টাকা চুরির ঘটনা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর সঙ্গে খোদ শাসক দলের অর্থাৎ বিজেপির একাধিক সদস্য জড়িত রয়েছেন।

অখিলেশ আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলে যারা সরকার গড়েছে, আজ তারা কেন এই অনুদান দুর্নীতি নিয়ে মুখ বন্ধ করে আছে? কেন তারা এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে ভয় পাচ্ছে?”

এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা

রাম মন্দির অনুদান ছাড়াও বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা এফসিআরএ (FCRA) সংশোধনী বিল নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন এসপি সুপ্রিমো। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এফসিআরএ বিলের আড়ালে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে নিজেদের দখলে নেওয়ার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত করছে।

বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অখিলেশ বলেন, “বিজেপি হলো আসলে এক ধরনের বড় ‘ভূমি মাফিয়া’। তাঁরা যেখানেই কোনো ফাঁকা জমি বা পুকুর দেখে, কিংবা অযোধ্যার পবিত্র ভূমিতে যেভাবে ভক্তদের বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছে—তা লক্ষ্য করে, মুহূর্তের মধ্যে সেই জমির দাম আকাশছোঁয়া করে তোলে।”

ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশের দমনপীড়ন নিয়ে প্রশ্ন

রাম মন্দির ও এফসিআরএ বিলের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ওপর চলা পুলিশি দমনপীড়নের প্রসঙ্গও তুলেছেন অখিলেশ। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্র বিক্ষোভের জেরে যাঁরা যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছেন, সেই ক্ষুব্ধ তরুণ-ছাত্ররাই একদিন সংসদের গেটের সামনে এসে দাঁড়াবে। দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এমনকি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি জানান যে, বিরোধীরা এই সমস্ত বিষয় নিয়েই অবিলম্বে সংসদের অন্দরে খোলামেলা ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনা দাবি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *