‘থালা ফর আ রিজন’! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার ৬ বছর পরও কেন অপ্রতিরোধ্য এমএস ধোনি? জানুন তাঁর অবিশ্বাস্য কীর্তিগুলি

২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেও আজও চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) জার্সিতে আইপিএলের বাইশ গজে সমানভাবে দাপট দেখিয়ে চলেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার প্রায় ছয় বছর অতিক্রান্ত হলেও বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁর আবেদন ও জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। তিনি কেবল একজন সফল অধিনায়ক নন, তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি। ক্রিকেট বিশ্বের এমন কিছু অনন্য নজির তিনি গড়ে গেছেন, যা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পক্ষে ভাঙা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।

এমএস ধোনির ৭টি অবিস্মরণীয় রেকর্ড:

১. আইসিসি-র তিনটি ট্রফি জয়ী একমাত্র অধিনায়ক: বিশ্বের একমাত্র ক্যাপটেন হিসেবে ধোনি ভারতকে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছেন। তাঁর এই ত্রিমুকুট জয়ের রেকর্ড এখনও কারোর দ্বারা অর্জিত হয়নি।

২. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক স্টাম্পিং: উইকেটকিপার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ১৯৫টি স্টাম্পিং করার বিশ্বরেকর্ড রয়েছে ধোনির ঝুলিতে। তাঁর চোখের পলক ফেলার আগেই ব্যাটারদের আউট করার দক্ষতা আজও রূপকথার মতো।

৩. সফলতম সফল রান চেসার ও ম্যাচ ফিনিশার: ওয়ানডে ক্রিকেটে রান তাড়া করার সময় এবং লোয়ার অর্ডারে নেমে ম্যাচ ফিনিশ করার ক্ষেত্রে ধোনির গড় ও পরিসংখ্যান সর্বকালের সেরাদের অন্যতম। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ বের করে আনার জন্যই তিনি ‘ক্যাপ্টেন কুল’।

৪. অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ: ভারত তথা বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ৩৩২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তাঁর নামের পাশে।

৫. অধিনায়ক হিসেবে ছক্কা মেরে বিশ্বকাপ জয়: ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নুয়ান কুলশেকরার বল লং অনের উপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ফাইনালে কোনো অধিনায়কের এমন ম্যাচ জেতানো ইনিংস বিরল।

৬. আইপিএলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা: বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে নিয়মিত খেলে চলা ধোনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সফলতম অধিনায়ক ও মেন্টাল টেম্পারামেন্টের প্রতীক।

৭. অসাধারণ সফল ডিআরএস (DRS) ব্যবহার: রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিখুঁত নির্ভুলতার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা মজা করে ডিআরএস-এর নাম পাল্টে ‘ধোনি রিভিউ সিস্টেম’ বলে থাকেন। আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত বদলাতে তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধি বহুবার ভারতকে ম্যাচ জিতেছে।

ক্রিকেট মাঠে তাঁর এই অনন্যসাধারণ কীর্তিগুলি প্রমাণ করে কেন তাঁকে আজও বিশ্বজোড়া ক্রিকেটপ্রেমীরা ‘থালা’ বলে সম্মান করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *