বয়স ৫০ থেকে ৭০, মানতে হবে কঠোর শর্ত! রাম মন্দিরের প্রথম CEO হতে লড়াইয়ে টিকে রইলেন মাত্র এই ১৮ জন

রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে বড় পদক্ষেপ নিল ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। মন্দিরের প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক দিকগুলি সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য পাকাপাকিভাবে সিইও (CEO) বা মুখ্য কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদের জন্য জমা পড়া ৫ হাজার ৩-শতাধিক আবেদনের মধ্য থেকে বাছাই করে সেরা ১৮ জন প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে।
কঠোর শর্ত ও বাছাই প্রক্রিয়া
মন্দির চত্বরে আগামী দু’দিন ধরে এক উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের সামনে এই ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হবে। সিইও পদের জন্য ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কিছু অত্যন্ত কঠোর ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড রাখা হয়েছে:
-
প্রার্থীকে অবশ্যই সনাতনী হিন্দু হতে হবে এবং হিন্দু ঐতিহ্য ও নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
-
প্রার্থীকে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী এবং নেশামুক্ত হতে হবে।
-
প্রার্থীর বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
-
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের এই পদের জন্য বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের ইন্টারভিউ প্যানেল
সিইও পদের যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেলে রয়েছেন:
-
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি
-
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী
-
শিরডি সাই বাবা ট্রাস্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে
অনুদান তছরুপ কাণ্ড ও তদন্তের প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রাম মন্দিরের অনুদান এবং টাকা তছরুপের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপরই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৩ জুন উত্তর প্রদেশ সরকার এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট (SIT) গঠন করে।
প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন এফআইআর দায়ের করা হয় এবং অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুষ মিশ্র সহ মোট আট অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তদন্ত চলাকালীন ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা (কেবল অবিনাশ শুক্লার কাছ থেকেই সর্বাধিক ২০ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা), সোনা, রুপো এবং বিদেশি মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা হয়। অনুদান তছরুপের এই হাই-প্রোফাইল তদন্তের মাঝেই মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিইও নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন একেবারে অন্তিম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।