“পছন্দমতো চিকিৎসার অধিকার সকলের আছে!” রাজ্যের আপত্তি উড়িয়ে অভিষেককে বিদেশ যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট

দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার আইনি ছাড়পত্র পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড়সড় স্বস্তি মিলল তাঁর শিবিরে। কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সময়সীমা
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর বিদেশযাত্রায় কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না।
আদালতের দ্ব্যর্থহীন বার্তা, শুধুমাত্র কারও বিরুদ্ধে চলমান মামলার কারণে তাঁকে নিজের পছন্দমতো জায়গায় গিয়ে চিকিৎসা করানোর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
হাইকোর্টে কী হয়েছিল?
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের বিদেশযাত্রার আর্জি খারিজ করে দেয়, যা তাঁর জন্য বড় ধাক্কা ছিল। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে অভিষেককে রাজ্যের এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে যেতে হবে এবং সেখানকার চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড বিষয়টি যাচাই করবে।
কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম হাসপাতালে যাবেন না। এই অনড় অবস্থানের পরেই বিচারপতি ভট্টাচার্য মামলাটি খারিজ করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টে জয় ও রাজ্যের আপত্তি খারিজ
হাইকোর্টের ওই রায়ের পরই গত ৭ অগস্ট গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শুনানিপর্বে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অভিষেকের বিরুদ্ধে বিচারাধীন একাধিক মামলার কথা তুলে ধরে তাঁর বিদেশযাত্রার তীব্র বিরোধিতা করেন। তবে রাজ্যের সেই আপত্তি ধোপে টেকেনি। সমস্ত আইনি জট কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের রায়ে বিদেশযাত্রার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।