“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই অরাজকতা সৃষ্টি করছেন!” হালিশহরে কনভয়ে হামলা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চরম বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে প্রয়াত তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে বের হওয়ার সময়ই তাঁর কনভয় ও গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, কাদা এবং জুতো ছোঁড়া হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে ঘিরে ‘চোর’ ও ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় রাজ্য জুড়ে চরম রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল হালিশহরে?
গত শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয় স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের। বীরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয় যে, পুলিশ হেফাজতে বীরজুকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাঁর শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর হেফাজত থেকেই অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ হালিশহরে বীরজুর বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয়দের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে মমতাকে কিছুটা পথ হেঁটে মূল রাস্তায় এসে গাড়িতে উঠতে হয়। সেই সময়ই পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর, কাদা ও জুতো ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আক্রমণ মমতার
সরাসরি রাজ্য পুলিশকে বড় কোনো দোষ না দিলেও এই ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একহাত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশকে আমি দোষ দিই না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তো অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। পুলিশি নিরাপত্তার বেড়াজালের মধ্যেই একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর প্রকাশ্য রাস্তায় হামলার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের গাড়িতে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে। কাস্টডিয়াল ডেথ হচ্ছে। বাংলা লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে।”
ডিজি ও কমিশনারের পদত্যাগ দাবি কল্যাণের
এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন মমতার সঙ্গে থাকা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের চোখের সামনে এই ধরনের হামলা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।