জলের তলায় বড় গর্ত, টোটো দুর্ঘটনায় পচন ধরে বাদ গেল হাত! ক্ষোভে ফুটছে উত্তর হাওড়া

রাস্তার বেহাল দশা ও প্রশাসনের উদাসীনতার মাশুল গুনতে হলো এক সাধারণ মানুষকে। জল জমে থাকা রাস্তার গভীর গর্তে টোটো উল্টে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক পুরোহিত। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অস্ত্রোপচার করে কেটে বাদ দিতে হয়েছে তাঁর বাঁ হাতের একটি বড় অংশ। এই ঘটনায় উত্তর হাওড়া ও লিলুয়ার বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি গত এপ্রিল মাসের হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় পুরোহিত শুভেন্দু চক্রবর্তী পুজো সেরে টোটোয় চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বর্ষার জলের কারণে রাস্তায় থাকা বড় গর্তটি জলের নিচে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। টোটো চালক তা দেখতে না পাওয়ায় গাড়িটি ওই গর্তে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় এবং গুরুতর জখম হন শুভেন্দু।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তাঁকে প্রথমে হাওড়া এবং পরবর্তীতে কলকাতার একাধিক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, প্রথম দিকে সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় তাঁর হাতের আঙুলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। একে একে একাধিক হাসপাতালে ঘুরেও শেষরক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা জানান, ক্ষতস্থানে পচন এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে জীবন বাঁচাতে হাতের একটি বড় অংশ কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। পুরোহিতের কাজ করেই যাঁর সংসার চলত, হাত হারানোর পর তাঁর জীবন এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে।
এই একটিমাত্র ঘটনাই নয়, উত্তর হাওড়া ও লিলুয়ার রাস্তার শোচনীয় চিত্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকাবাসী। জি টি রোড, জে এন মুখার্জি রোড এবং নস্করপাড়া রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে জল জমে পুকুরের রূপ নেয়। সম্প্রতি জে এন মুখার্জি রোডেই একই দিনে আরও দুটি টোটো উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তারা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও সাধারণ মানুষের এই চরম দুর্ভোগ তাঁদের চোখে পড়ে না। বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরেও কেন স্থায়ীভাবে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফুটছেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।