চলতি মাসেই বসছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন? মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে মোদীর বড় চালে বিপাকে বিরোধী শিবির!

কেন্দ্রের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা পরিশীলন বিল লোকসভায় নিরাপদে পাশ করানোর জন্য এনডিএ জোটের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরীষ্ঠতা ও প্রয়োজনীয় সমর্থন রয়েছে বলে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে সরকার ও প্রধান বিরোধীদের অচলাবস্থার কারণে এই বিলগুলি পেশ করা না গেলে, চলতি মাসের মধ্যেই সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিলগুলি আইন হিসেবে পাশ করানো হবে। পাশাপাশি, এই মুহূর্তে সরকারের সঙ্গে মোট ৩৬৬ জন লোকসভার সাংসদের শক্ত সমর্থন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এনডিএ বৈঠকে ডিলিমিটেশন ও জেন-জি ফোকাস

গত শুক্রবার এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল প্রকাশ্যে আসে। সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম সুচারুভাবে চালিত করতে এবং বিরোধী অচলাবস্থা কাটাতে কেন্দ্র সরকার আগে থেকেই সচেষ্ট। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে সহজে পৌঁছে যাওয়া এবং এনডিএ জোটকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার মতো একাধিক প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়েও সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডিলিমিটেশন বা পরিধি বাড়ানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের পক্ষে যথেষ্ট সংখ্যাধিক্য রয়েছে।

বিশেষ অধিবেশন ও সাংসদদের জন্য কড়া বার্তা

রুটিন অধিবেশনের মধ্যে বিলগুলি পেশ করা সম্ভব না হলে, চলতি মাসের শেষভাগে একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত সাংসদদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরিসীমানা নির্ধারণের এই জটিল প্রক্রিয়ায় তাঁদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার স্বার্থ ও সুরক্ষা পুরোপুরি বজায় রাখা হবে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ভূত ছাত্র বিক্ষোভ ও তরুণদের ক্ষোভের দিকটি মাথায় রেখে, প্রধানমন্ত্রী সমস্ত এনডিএ সাংসদদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা দেশের ‘জেন-জি’ (Gen Z) প্রজন্মের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন। সরাসরি যুবসমাজের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও সাফল্যের বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তরুণ ভোটারদের মনের আশঙ্কা দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরের সাংসদদের বিভিন্ন উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলগত সমস্ত সিদ্ধান্তই সম্পূর্ণরূপে সাংবিধানিক কাঠামোর গণ্ডীর ভেতরে থেকেই নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *