‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন সেটাই করব!’ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক নিয়ে অনড় অবস্থান শাকিবের

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার যাবতীয় জল্পনা ও পরামর্শ উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ শাকিব আল হাসান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও মূল্যে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের সঙ্গেই থাকবেন এবং তাঁর নির্দেশেই চলবেন। সম্প্রতি হাসিনার সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা অলরাউন্ডার।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শাকিব। বর্তমানে তিনি শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন। অনেকে মনে করেছিলেন, আওয়ামী লীগ ও হাসিনার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করলে হয়তো সরকার তাঁকে দেশে ফেরা এবং জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা খারিজ করে শাকিব স্পষ্ট জানান, হাসিনার সঙ্গ ছাড়ার কথা তিনি কখনও ভাবতেই পারেন না। ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়া নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই এবং তাঁর মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে শাকিব জানান, যত দ্রুত সম্ভব তিনি দেশে ফিরতে চান। যদি এখন সম্ভব না হয়, তবে আগামী ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনাও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ক্যাপ্টেন (হাসিনা) যা বলবেন, সেটাই করব। আমার মনে হয়, উনিই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।”
দেশের জার্সিতে খেলা এবং বিদায়ী সিরিজ নিয়ে শাকিব বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলে কেরিয়ার শেষ করার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এছাড়া ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তবে তার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে তাঁর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং সমস্ত মামলার মুখোমুখি হয়ে তবেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা মামলা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে শাকিব জানান, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে—একটি ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা। হত্যা মামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, যেদিন মামলা হয়েছিল, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোয় ম্যাচ খেলছিলেন। এছাড়া গত প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “গত ১০ বছর ধরে আমি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা। তদন্ত করুন, কিন্তু কিছু না পেলে আমার অ্যাকাউন্টগুলি অবিলম্বে মুক্ত করে দিন।”