‘জেন জি’ মানেই কি আর দেশবিরোধী নয়? মোহন ভগবতের বার্তার পরেই কঙ্গনার মুখে হঠাৎ এ কোন সুর!

আন্দোলনকারী তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ (Gen Z)-কে অতীতে ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘নর্দমা প্রজন্ম’ বলে সম্বোধন করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। তবে সেই কড়া সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে শুক্রবার হঠাৎই সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। নতুন প্রজন্মকে এবার ‘দেশের শক্তি, গর্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির দূত’ হিসেবে আখ্যা দিলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবতের (Mohan Bhagwat) একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কী বলেছিলেন মোহন ভগবত?
ঠিক আগের দিনই মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। তিনি জানান, নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেই জেন জি বা তরুণ প্রজন্ম ‘দেশবিরোধী’ হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই সন্তান এবং তাদের যুক্তিপূর্ণ দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। সংঘ প্রধানের এই পজিটিভ বার্তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কঙ্গনা। সেখানে তাঁকে জেন জি-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায়।
কঙ্গনা সাংবাদিকদের বলেন, “জেন জি হল আমাদের দেশের আসল শক্তি এবং এক অর্থে আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমাদের তরুণ সমাজ যে ক্রমেই ভারতের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে উঠছে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
বিতর্কের সূত্রপাত কোথা থেকে?
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীন কিছু তরুণীর আচরণকে আক্রমণ করে কঙ্গনা একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি স্বাধীন জীবনযাপন করতে চাওয়া আধুনিক তরুণীদের একাংশকে ‘নর্দমা প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি ছিল, উপার্জন না করে শুধুমাত্র পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুকরণ করতে চাওয়াই এই প্রজন্মের স্বভাব।
মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা শুরু হলে কঙ্গনা সাফাই দিয়ে জানান, তাঁর বক্তব্য ছিল মূলত সেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে, যারা অনৈতিক আচরণ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছে। তরুণ প্রজন্মের শৃঙ্খলার উপর জোর দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।
তবে এই মন্তব্যের জেরে যেমন বিরোধী শিবির আক্রমণ শাণিত করেছিল, তেমনই শাসক শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। পরে অবশ্য ফ্রেন্ডশিপ ডে-তে জেন-জি তরুণীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং “Peace Out” বার্তা দিয়ে জলঘোলা কমানোর চেষ্টাও করেন এই অভিনেত্রী-সাংসদ। কিন্তু আরএসএস প্রধানের ইতিবাচক বার্তার পর কঙ্গনার এই সম্পূর্ণ ভোলবদল এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে।