টাকা মেটানো হয়নি বলে কি ফোন লক করে দেওয়া যাবে? রিকভারি নিয়ে ব্যাঙ্কগুলির জন্য কড়া গাইডলাইন আনল আরবিআই

লোন বা ঋণ পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই রিকভারি এজেন্টদের মাধ্যমে হেনস্থা কিংবা গ্রাহকদের ডিজিটাল ডিভাইস লক করে দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হোম লোন, পার্সোনাল লোন কিংবা কার লোনের মতো ক্ষেত্রে ইএমআই (EMI) বা কিস্তি বাকি থাকলেও ব্যাঙ্কগুলি ঋণগ্রহীতার মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ কোনোভাবেই লক বা ডিসেবল করে বকেয়া টাকা আদায় করতে পারবে না।
সম্প্রতি গ্রাহক হয়রানি রুখতে এবং ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে একটি নতুন আচরণবিধি প্রকাশ করেছে আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্পষ্ট বার্তা, কোনো ব্যাঙ্ক এমন কোনো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নিতে পারবে না যা ঋণ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে গ্রাহকের ব্যক্তিগত মোবাইল বা ল্যাপটপের কার্যকারিতা বন্ধ বা সীমিত করে দেয়। তবে এক্ষেত্রে একটিমাত্র ছাড় রাখা হয়েছে— যদি ব্যাঙ্ক নিজে সংশ্লিষ্ট কোনো ডিভাইস কেনার জন্যই নির্দিষ্ট করে ঋণ দিয়ে থাকে, তবেই কেবল বকেয়া আদায়ের জন্য সেই ডিভাইসের কিছু ফিচার সীমিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা যেতে পারে।
তবে সেই বিশেষ ক্ষেত্রেও ব্যাঙ্কগুলিকে ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। এক লাফে ডিভাইসের সমস্ত ফিচার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা, গ্রাহকের জরুরি যোগাযোগ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিসেবা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। আরবিআই-এর নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইনকামিং কল (Incoming Calls), এসএমএস (SMS) এবং এমার্জেন্সি এসওএস (Emergency SOS)-এর মতো অপরিহার্য পরিষেবাগুলি কোনো অবস্থাতেই বন্ধ বা সীমিত রাখা যাবে না।
জানা গেছে, আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশের সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক এবং আরবিআই-নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এই নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই কড়া পদক্ষেপে সাধারণ ঋণগ্রহীতা যে সাইবার হেনস্থা ও মানসিক চাপ থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাবেন, তা বলাই বাহুল্য।