শিল্পে বিপ্লব আনছে বিহার! পারমাণবিক শক্তি, ইস্পাত ও বস্ত্রশিল্পে ৫.১৬ লক্ষ কোটির মেগা বিনিয়োগ চুক্তি

পারমাণবিক শক্তি, ইস্পাত, বস্ত্রশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে ৫১,৬০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করল বিহার সরকার। বৃহস্পতিবার পাটনায় মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারকগুলি (MoUs) স্বাক্ষরিত হয়। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো এই প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করে রাজ্যে নতুন শিল্প প্রকল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
পারমাণবিক শক্তিতে ২২,৫০০ কোটির রেকর্ড প্রস্তাব:
এই বিনিয়োগ প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশীদার হলো ‘গ্লোবাল রিনিউয়েবল অ্যাডভান্সড ক্লিন এনার্জি’ বা GRACE Pvt Ltd। কোম্পানিটি পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পে এক লাফে ২২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থান, উৎপাদন ক্ষমতা বা সময়সীমা সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়নি, তবে পারমাণবিক শক্তি খাতের এই প্রস্তাবটি দেশের শিল্প মহলে যথেষ্ট কৌতূহল ও গুরুত্ব সৃষ্টি করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, শক্তি পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে তারা পরিচ্ছন্ন ও পারমাণবিক শক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইস্পাত শিল্পে বড় বিনিয়োগের হিড়িক:
পারমাণবিক শক্তির পাশাপাশি মেটাল ও ইস্পাত (Steel) খাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এসেছে। সব মিলিয়ে এই সেক্টরে মোট ছটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে:
নক্ষত্র আয়রন অ্যান্ড স্টিল প্রাইভেট লিমিটেড: ৬,৮৩৬ কোটি টাকা।
অঙ্কুর স্টিল প্রাইভেট লিমিটেড: ৬,০০০ কোটি টাকা।
শ্রী ল্যাংটা বাবা মেটালস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড: ৫,৫০০ কোটি টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই প্রসঙ্গে জানান, “আমাদের সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত মাটির তলায় বা বাস্তবে রূপায়ণ করা, যাতে রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তরান্বিত হয়।” বিহারকে দেশের একটি অন্যতম প্রধান ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
বস্ত্রশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ফার্মা সেক্টরে জোর:
ভারী শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানমুখী ক্ষেত্রগুলিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় বস্ত্রশিল্প এবং অ্যাপারেল সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ (Food Processing) এবং ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকেও সম্প্রসারণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী লক্ষ্য ‘বিহার বিজনেস কানেক্ট ২০২৬’:
বিনিয়োগের এই বিশাল পাইপলাইন হাতে পাওয়ার পর সরকারের আসল পরীক্ষা হলো কত দ্রুত এই সমঝোতা স্মারকগুলি কারখানা এবং কর্মসংস্থানে পরিণত হয়। এর মাঝেই আগামী দিনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি করে আকৃষ্ট করতে ‘বিহার বিজনেস কানেক্ট ২০২৬’ (Bihar Business Connect 2026)-এর প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার তাদের এই শিল্পোন্নয়ন অভিযানের মূল থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে— “বিল্ড অ্যান্ড বিলিভ ইন বিহার” (Build and Believe in Bihar)। এখন দেখার, এই মেগা বিনিয়োগের সঠিক রূপায়ণের মাধ্যমে বিহারের অর্থনৈতিক মানচিত্রে কতটা পরিবর্তন আসে।