ভারতীয় অর্থনীতির মুকুটে নতুন পালক! ৫ বছরের খরা কাটিয়ে রেকর্ড গড়ল বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ

ভারতীয় অর্থনীতি এবং এর দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থার পারদ যে ক্রমাগত উর্ধ্বমুখী, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক (MCA) কর্তৃক সংসদে পেশ করা সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ বিগত পাঁচ বছরের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এক নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে। বিগত চার বছর ধরে ভারতে নতুন নিবন্ধিত কোম্পানির তুলনায় পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যাওয়া বা ব্যবসা বন্ধ করা বিদেশি সংস্থার সংখ্যা বেশি থাকলেও, ২০২৫-২৬ সালে সেই ছবি পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে।সংসদে কী জানালেন অর্থমন্ত্রী?সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ৩৮০ ধারার অধীনে রেকর্ড ১০২টি নতুন বিদেশি কোম্পানি ভারতে নিবন্ধিত হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে ৮৪টি কোম্পানি। অর্থাৎ, বন্ধ হওয়া সংস্থার চেয়ে নতুন প্রবেশকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।একনজরে গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান:কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী বিগত পাঁচ বছরে বিদেশি কোম্পানি ও তাদের ভারতীয় সহায়ক সংস্থাগুলির নিবন্ধনের খতিয়ানটি নিম্নরূপ:আর্থিক বছরবিদেশি কোম্পানি (নিবন্ধিত)বিদেশি কোম্পানি (বন্ধ)ভারতীয় সহায়ক সংস্থা (নিবন্ধিত)ভারতীয় সহায়ক সংস্থা (বন্ধ)২০২১-২২৭৪১০৪১,৮২৯৩০০২০২২-২৩৫১৬৩১,৮৩১১৩৪২০২৩-২৪৬৬৬৮২,১১২২৪২২০২৪-২৫৫৯৬৩২,০১৩২৫৩২০২৫-২৬১০২৮৪২,১৯১২৯৪বর্তমান চিত্র ও সক্রিয় সংস্থা:বিদেশি কোম্পানি: চলতি বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৩,৩১৩টি বিদেশি কোম্পানি ভারতে সক্রিয়ভাবে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।বিদেশি মালিকানাধীন ভারতীয় সংস্থা: এর বাইরেও এমন ১৯,৮৮১টি ভারতীয় সংস্থা রয়েছে, যাদের মূল বা হোল্ডিং (Parent) কোম্পানিগুলি বিদেশের মাটিতে অবস্থিত। এছাড়া ২০২৬ অর্থবর্ষেই এক লাফে ২,১৯১টি নতুন ভারতীয় সহায়ক সংস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।কেন বদলাচ্ছে এই প্রবণতা?সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারতে কোনো বিদেশি কোম্পানির ব্যবসা শুরু করা বা বন্ধ করা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। তবে এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু মূল কারণ:ভারতীয় বাজারের আকর্ষণ: দেশের বিশাল বাজারের আকার, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিশ্বজুড়ে বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করছে।বৈশ্বিক অগ্রাধিকার: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারত যে একটি নির্ভরযোগ্য ‘প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি’ (Growth Engine), তা আবারও প্রমাণিত হলো।সংস্থাগুলির ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে খাতভিত্তিক কৌশল, বৈশ্বিক মূলধন বরাদ্দ বা ভৌগোলিক পুনর্গঠনের মতো বাণিজ্যিক বিষয়গুলিকেই দায়ী করেছে মন্ত্রক। তবে বিগত ৫ বছরের খরা কাটিয়ে যেভাবে নতুন বিদেশি কোম্পানিগুলি ভারতের মাটিতে শিকড় গাড়ছে, তাতে দেশের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে বড়োসর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।