বিদ্যুৎ বিল কমাতে এসি-ফ্রিজ ব্যবহারে যেসব ভুল করবেন না, জেনেনিন কী কী?

রমের দিনে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে এসি (AC) এবং ফ্রিজের (Fridge)। অনেকেই মনে করেন, বাজারে নতুন ইনভার্টার মডেলের বা দামি গ্যাজেট কিনলেই বুঝি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ বিল কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে বিদ্যুৎ খরচ মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়। সামান্য কয়েকটি নিয়ম বা অভ্যাস মেনে চললেই মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে চোখে পড়ার মতো বড় অঙ্কের সাশ্রয় করা সম্ভব।
১. এসি (AC) ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন:
-
সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ: ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য অনেকেই এসির রিমোট টিপে তাপমাত্রা ১৬ বা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে দেন। এতে ঘর কিন্তু জলদি ঠান্ডা হয় না, বরং কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় ধরে তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করতে হয়, ফলে বিদ্যুৎ খরচ হু হু করে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর মধ্যে রাখাটাই স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
-
দরজা-জানালা খোলা রাখা: এসি চলার সময় বারবার দরজা বা জানালা খোলা রাখা একটি বড় ভুল। বাইরে থেকে গরম বাতাস ঘরে প্রবেশ করলে এসিকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে আবার ঘর ঠান্ডা করতে হয়। এছাড়া দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখলে সরাসরি রোদ ঘরে ঢুকতে পারে না, যা এসির কাজ অনেকটাই সহজ করে দেয়।
-
ফিল্টার পরিষ্কার না করা: অনেকেই মাসের পর মাস এসির ফিল্টার পরিষ্কার করার কথা ভুলেই যান। ধুলাবালিতে ফিল্টার আটকে গেলে হাওয়া চলাচল ব্যাহত হয় এবং ঘর ঠান্ডা করতে এসিকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। তাই অন্তত প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ অন্তর এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা আবশ্যক।
২. ফ্রিজ (Fridge) ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন:
-
গরম খাবার সরাসরি রাখা: রান্না করা গরম খাবার বা স্যুপ সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া একদমই উচিত নয়। এতে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা হঠাত্ করেই বেড়ে যায় এবং খাবার ঠান্ডা করতে কম্প্রেসরকে অনেকক্ষণ ধরে চালু থাকতে হয়। তাই খাবার পুরোপুরি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পরেই তা ফ্রিজে রাখা উচিত।
-
বারবার ফ্রিজের দরজা খোলা: প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা বারবার ফ্রিজের দরজা খোলা এবং অনেকক্ষণ খোলা রাখাও বিদ্যুৎ অপচয়ের অন্যতম বড় কারণ। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বাইরের উষ্ণ বাতাস ভেতরে ঢুকে যায়, যা ঠান্ডা করতে অতিরিক্ত শক্তির অপচয় হয়।
-
দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে ফ্রিজ রাখা: ফ্রিজের পেছনের অংশ দিয়ে কম্প্রেসরের উৎপাদিত তাপ বাইরে বের হয়। ফ্রিজটি যদি দেয়ালের একদম গা ঘেঁষে রাখা হয়, তবে সেই তাপ বের হতে বাধা পায় এবং যন্ত্রটিকে ঠান্ডা করার জন্য বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে হয়। তাই ফ্রিজের পেছনে ও দুই পাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখা সবসময়ই উচিত।
-
অতিরিক্ত বরফ জমতে দেওয়া: পুরোনো বা নন-ফ্রস্ট মডেলের ফ্রিজে বেশি বরফ জমে গেলে কুলিং এফিসিয়েন্সি বা ঠান্ডার ক্ষমতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ফ্রিজ ডিফ্রস্ট (Defrost) করা দরকার।
উপসংহার
এসি ও ফ্রিজ নিয়মিত সময়মতো সার্ভিসিং করানো, সঠিক ও আদর্শ তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অপচয় এড়ানোই হলো বিদ্যুৎ বিল কমানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলি বদলেই দেখুন, আগামী মাসেই আপনার বিদ্যুৎ বিলের খরচ অনেকটাই কমে যাবে!