রাজ্যে শিল্প আনার বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে ছাড় মিলল পুরসভা ও পঞ্চায়েতের অনুমোদনে

রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে এবার আরও বেশি তৎপর হলো রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, লাল ফিতের ফাঁস এবং স্থানীয় স্তরে নানা রকম হয়রানি বা তোলাবাজি এ রাজ্যে বিনিয়োগের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেই সমস্ত জট কাটিয়ে রাজ্যে একটি প্রকৃত শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবার বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাজ্যের শিল্পায়নের এই নতুন রোডম্যাপ সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন তিনি।
এক মাসের মধ্যে ২৫ জন শিল্পপতিকে জমি হস্তান্তর
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ বা প্রাপ্যতা বরাবরই একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল বিষয়। বিনিয়োগকারীদের সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সরকার এখন অনেকটাই বেশি সক্রিয়, তা এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি ঘোষণা করেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই অন্তত ২৫ জন শিল্পপতিকে সরাসরি জমি হস্তান্তর করা হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নতুন ‘ল্যান্ড পারচেজ পলিসি’ (Land Purchase Policy) বা জমিক্রয় নীতি চালু করা হয়েছে। চাষিরা স্বেচ্ছায় সরকারের হাতে জমি তুলে দিচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসার সুবিধার জন্য নতুন একটি ‘ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ বা জমিকরা উন্নয়ন নীতি চালুর কথাও চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার।
১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে মিলল বিরাট ছাড়
বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে এবং স্থানীয় স্তরে অযথা হয়রানি এড়াতে আরও একটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো সংস্থায় ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে, তাদের আর স্থানীয় কোনো পুরসভা, কর্পোরেশন বা পঞ্চায়েতের অনুমোদনের জন্য দৌড়াতে হবে না। সাধারণত এই স্তরেই বিনিয়োগকারীদের নানা জটিলতা ও সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সেই বাধা দূর করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র এবার একটি নির্দিষ্ট একক কেন্দ্র থেকেই পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিনের এই সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, লগ্নিকারীরা যাতে কোনোভাবেই স্থানীয় স্তরে হয়রানির শিকার না হন, তার জন্য ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’ বা এক জানালা নীতি আরও কঠোরভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে। রাজ্যের কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং শিল্পজগতে আস্থা ফেরাতে সরকারের এই মেগা পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।