খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে প্লাস্টিকের নোট! কবে থেকে আপনার হাতে পৌঁছবে নতুন পলিমার কারেন্সি?

অবশেষে জল্পনায় সিলমোহর পড়ল। খুব শীঘ্রই দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট বা পলিমার কারেন্সি (Polymer Notes)। কবে থেকে এই নতুন ধরনের নোট সাধারণ মানুষের হাতে বা চালচক্রে আসবে, তার এক সম্ভাব্য সময়সীমা সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকা ও ২০ টাকার পলিমার নোট বাজারে আনা হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে পথচলা
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা (Field Trials) ঠিকঠাক এগোলে আগামী অর্থবর্ষের শুরু থেকেই দেশে পলিমার নোট প্রচলনে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
আপাতত এটি একটি পাইলট প্রকল্প বা পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চালু করা হবে।
এর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০ টাকা ও ২০ টাকার প্লাস্টিক বা পলিমার নোট বাজারে আনা হবে।
তবে এই নতুন নোট আসার অর্থ এই নয় যে প্রচলিত কাগজের নোটগুলি রাতারাতি বাতিল বা অচল হয়ে যাবে। আরবিআই স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নতুন পলিমার নোটের পাশাপাশি পুরনো কাগজের নোটগুলিও সমানভাবে আইনি টেন্ডার বা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে চালু থাকবে।
কেন এই উদ্যোগ নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পলিমার নোট চালুর জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর আগে ২০০৯ সালেও এমন প্রস্তাব উঠেছিল, কিন্তু কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
১. বহনক্ষমতা ও স্থায়িত্ব: প্রচলিত তুলো-ভিত্তিক কাগজের নোটের তুলনায় প্লাস্টিক বা পলিমার নোট অনেক বেশি টেকসই হয়। এগুলিতে সহজে ধুলো-ময়লা লাগে না এবং এগুলি সহজে ছেঁড়েও না।
২. দীর্ঘ আয়ু: ১০ টাকা বা ২০ টাকার মতো কম মূল্যমানের নোটগুলি হাতবদল হয় সবচেয়ে বেশি, ফলে এগুলির ক্ষয়ও হয় দ্রুত। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পলিমার নোটের আয়ু সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় দুই থেকে চার গুণ বেশি হয়। এর ফলে বারবার নোট ছাপানোর খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও এটিএম সংক্রান্ত প্রস্তুতি
প্রাথমিক পাইলট প্রকল্পে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোটের ফলাফল যদি সফল হয় এবং সাধারণ মানুষ এটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন, তবে পরবর্তী ধাপে ১০০ টাকা ও ৫০০ টাকার পলিমার নোটও বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে আরবিআই-এর।
তবে প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বর্তমানের অনেক এটিএম মেশিন বা ক্যাশ রিসাইক্লার পলিমার নোট শনাক্ত করতে বা তা সঠিকভাবে বিতরণ করতে পারে না। ফলে এই নোটগুলি সর্বজনীন করার আগে সমস্ত এটিএম মেশিনের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পরিবর্তনে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।