নোট ছেঁড়া বা ভিজে যাওয়ার দিন শেষ! দেশে আসছে প্লাস্টিকের পলিমার নোট, আরবিআইয়ের বড় ঘোষণায় স্বস্তি

কেনাকাটা করার পর খুচরা বা ছোট নোট ছেঁড়া, ময়লা কিংবা মলিন হওয়ার কারণে দোকানদারের সঙ্গে বচসা—এই দৃশ্য ভারতের বাজারে অত্যন্ত পরিচিত। কাগজ দিয়ে তৈরি হওয়ায় সামান্য জল লাগলে বা দীর্ঘদিন হাতবদল হলেই ১০ ও ২০ টাকার নোট খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের এই চিরদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবার এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। জল-কাদা বা দীর্ঘ ব্যবহারে সহজে নষ্ট হবে না এমন বিশেষ প্লাস্টিক বা ‘পলিমার’ প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি মুদ্রা দেশের বাজারে আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

কবে নাগাদ আসবে এই নতুন টাকা?

সম্প্রতি দেশের মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করার সময় এই মেগা প্রকল্পের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা। তিনি জানান, বিশ্বের বহু দেশে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলভাবে পলিমার নোট ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতেও এই মুদ্রা চালুর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ পলিমার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই দরপত্র বা টেন্ডার ডাকা হয়েছে। সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুরক্ষাজনিত ছাড়পত্র পাওয়ার কাজ ঠিকঠাক এগোলে, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই নোট সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবে।

কোন কোন নোট আসছে এবং কত পরিমাণ?

দৈনন্দিন লেনদেন এবং খুচরা বাজারে ১০ ও ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় এবং এগুলিই সবথেকে দ্রুত জীর্ণ হয়ে পড়ে। সেই কথা মাথায় রেখেই পরীক্ষামূলকভাবে শুরুর দিকে এই দুই মূল্যের নোটই পলিমারে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কেন্দ্র সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি ১০ টাকার এবং ১০০ কোটি ২০ টাকার পলিমার নোট ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য ছাপানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সর্বমোট ২০০ কোটি পিস এই নতুন প্লাস্টিকের নোট বাজারে এলে তা সাধারণ মানুষের নগদ লেনদেনের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *