অপরিবর্তিত রইল রেপো রেট! স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমজনতাকে বড় বার্তা RBI গভর্নরের

অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI আবারও সুদের হার বা রেপো রেট (Repo Rate) অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। RBI-এর মনিটারি পলিসি কমিটির (Monetary Policy Committee) বৈঠক গত সোমবার শুরু হয়েছিল। আজ অর্থাৎ ৫ অগাস্ট গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই বৈঠক থেকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে কমিটি রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের হোম লোন বা অন্যান্য ঋণের মাসিক কিস্তি (EMI)-এর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

উল্লেখ্য, রেপো রেট হল সেই নির্দিষ্ট হার, যে সুদে RBI দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ প্রদান করে থাকে।

রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় কাদের সবচেয়ে বেশি লাভ?
এর আগে চলতি বছরের জুন, এপ্রিল এবং ফেব্রুয়ারি মাসের বৈঠকে সুদের হার স্থিতিশীল রেখেছিল শীর্ষ ব্যাঙ্ক। রেপো রেটে সর্বশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছিল ২০২৫-এর ডিসেম্বরে, যখন রেপো রেট ৫.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশ করা হয়েছিল।

ঋণগ্রহীতাদের স্বস্তি: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তটি সেই লক্ষ লক্ষ গ্রাহককে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দিয়েছে, যাঁরা গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ বা অন্যান্য পরিবর্তনশীল সুদের হারের ঋণ নিয়েছেন। এর ফলে আপাতত তাঁদের মাসিক EMI বাড়ছে না, যা পারিবারিক বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।

নতুন ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসা: নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেছে। পাশাপাশি, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির ঋণ গ্রহণের খরচ স্থিতিশীল থাকায় তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলোও দ্রুত গতি পাবে।

কী বললেন RBI গভর্নর?
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, মনিটারি পলিসি কমিটি চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় মুদ্রা পর্যালোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে পলিসি রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার এবং একটি নিরপেক্ষ (Neutral) অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও, ভারত যে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবেই নিজের জায়গা ধরে রেখেছে, সেকথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

GDP বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস
চলতি অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে গভর্নর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস সামনে এনেছেন:

জিডিপি বৃদ্ধি: এই অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত GDP বৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা আগের অনুমানের তুলনায় ১০ বেসিস পয়েন্ট বেশি।

কৃষি ও মুদ্রাস্ফীতি: অপর্যাপ্ত বর্ষা ও এল-নিনো পরিস্থিতির কারণে কৃষি খাতে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও, এই বছর কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ৫ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ত্রৈমাসিক অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতির হার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৪.৭%, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৫.৯% এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৫.৫% থাকতে পারে। পাশাপাশি, এই অর্থবর্ষে মূল মুদ্রাস্ফীতি ৪.৩ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, সুদের হার না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও বাজার অর্থনীতিকে বড় স্বস্তি দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *