অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে দেরি কেন? অগাস্ট মাসের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে বড় আপডেট দিল সরকার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমল থেকেই বাংলায় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সুরক্ষার ভাতা চালুর ধারা শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে রাজ্যের মহিলা থেকে বৃদ্ধ—সকলেই বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্য পেতেন। বৃদ্ধ ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ভাতা সেই সময় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আগের চালু থাকা বেশ কিছু ভাতার নামে পরিবর্তন এনেছে, অনেক ভাতার টাকার অঙ্কেও রদবদল ঘটিয়েছে এবং এখন কড়া যাচাইয়ের মাধ্যমে কেবল যোগ্য ও প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতেই ভাতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
চর্চায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ও তৃতীয় কিস্তির বন্টন
বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি যে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা ও চর্চা চলছে, তা হলো ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। রাজ্যের মহিলাদের জন্য, বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে তুলতে এই ভাতা চালু করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের দুটি কিস্তির টাকা সফলভাবে উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এবার পালা তৃতীয় কিস্তি দেওয়ার। গত ১ অগাস্ট থেকে এই তৃতীয় কিস্তির টাকা বন্টনের প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ১ অগাস্ট বা তার দু’-এক দিন কেটে যাওয়ার পরেও অনেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস ‘অ্যাপ্রুভড’ (Approved) থাকা সত্ত্বেও টাকা না পৌঁছনোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল।
টাকা দেরিতে ঢোকার আসল কারণ কী? সরকারের স্পষ্ট বার্তা
উপভোক্তাদের এই জল্পনা ও উদ্বেগ দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগের দুটি মাসের মতো চলতি অগাস্ট মাসেও সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিবিটি (DBT) বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টাকা পাঠানো হবে।
তবে টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে সামান্য দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে:
১ অগাস্ট থেকে টাকা ছাড়ার কাজ শুরু হলেও মাঝে ২ তারিখ ব্যাংক বন্ধ থাকায় এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
এছাড়া, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বর্তমানে নতুন করে উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াও ফের শুরু হয়েছে।
সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যাঁদের নাম ও স্ট্যাটাস অনুমোদিত রয়েছে, তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। ব্যাঙ্কের ছুটির দিন ও অতিরিক্ত যাচাইকরণের জন্যই সামান্য বিরতি ঘটেছে, তবে সমস্ত যোগ্য ব্যক্তিরা খুব শীঘ্রই তাঁদের প্রাপ্য টাকা হাতে পেয়ে যাবেন।