ভবানীপুর ভোটের ফল মামলায় হাইকোর্টে বড় মোড়! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা পিটিশন পিছোল ৬ সপ্তাহ!

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা (Election Petition) আরও ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টে। মামলার শুনানির শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী লিখিত বক্তব্য বা রিটায়ার্ড স্টেটমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে চার সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। এর পরেই বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তর বেঞ্চ সমস্ত পক্ষকে নতুন করে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মামলাটি ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন।
ঠিক কী অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রটিতে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হন তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে হেরে যাওয়ার পরই তিনি গণনায় ব্যাপক কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ ছিল, গণনার দিন দলের এজেন্টদের মারধর করে জোর করে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী তথা বিশিষ্ট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন যে, দ্বাদশ রাউন্ড পর্যন্ত গণনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই সমস্ত হিসাব বদলে যায় এবং গণনায় বড় ধরনের কারচুপি করা হয়।
আদালতে কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তর বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চান। যার তীব্র প্রতিবাদ জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতে ওকালতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি হাইকোর্টে ১৯৮১ সাল থেকে ওকালতি প্র্যাকটিস করছি। এত বছরে মাত্র একটি মামলা পাঁচ বছর শেষ হওয়ার তিন মাস আগে নিষ্পত্তি হয়েছে এই আদালতে। সচরাচর পাঁচ বছরেও ইলেকশন পিটিশন মামলা শেষ হয় না। এটা কলকাতা হাইকোর্টের একটি খারাপ ইতিহাস। তাই এবার এই মামলায় একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করতে এবং জলদি নিষ্পত্তি করে নজির গড়তে দয়া করে আদালত সাহায্য করুক।”
তাঁর এই বিশেষ আর্জির উত্তরে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক সুরে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সেই চেষ্টাই তো করছি।’ এরপরেই আদালত সব পক্ষকে নতুন করে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ জারি করে এবং মামলাটির শুনানি আগামী ছয় সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেয়। এখন দেখার, দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে এই হাইপ্রোফাইল মামলা কত দ্রুত বিচারপতির ডেস্কে গতি পায়।