অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না? এই ভুলগুলি করলেই কিন্তু বড় বিপদে পড়বেন!

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অত্যন্ত জনবহুল ও জনপ্রিয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র মাধ্যমে রাজ্যের যোগ্য উপভোক্তা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বহু আবেদনকারী মহিলাই সম্প্রতি নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন।

টাকা না আসার সম্ভাব্য কারণগুলি কী কী?

নিয়ম মেনে অনলাইনে বা নির্দিষ্ট শিবিরে আবেদন করা সত্ত্বেও যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি, তাঁদের ক্ষেত্রে মূলত কয়েকটি সাধারণ কারিগরি ও প্রশাসনিক ত্রুটি থাকতে পারে:

  • আবেদনপত্র এখনও সম্পূর্ণভাবে যাচাই বা ভেরিফাই না হওয়া।

  • ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ডের সুনির্দিষ্ট সংযোগ বা সিডিং না থাকা।

  • সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) পরিষেবা সক্রিয় বা অ্যাক্টিভ না থাকা।

  • আবেদনপত্রে ভুল তথ্য প্রদান কিংবা জমা দেওয়া নথিপত্রের সঙ্গে তথ্যের অমিল থাকা।

কোথায় ও কীভাবে যোগাযোগ করবেন?

এই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বা অভিযোগ জানাতে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

  • রাজ্য সরকারের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০-৩৪৫-৫৫১৫ (1800-345-5505)

  • দুয়ারে সরকার হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২২১৪-৩৫২৬ (033-2214-3526)

  • এছাড়া নিজের এলাকার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) অফিস, মহকুমা শাসক (SDO) অফিস অথবা জেলা সমাজকল্যাণ দফতরে (District Social Welfare Office) যোগাযোগ করা যেতে পারে।

জরুরি নথিপত্র: প্রশাসনিক দফতরে যাওয়ার আগে বা হেল্পলাইনে ফোন করার সময় আবেদন নম্বর, আধার কার্ডের তথ্য, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আইএফএসসি (IFSC) কোডের বিবরণ এবং আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ হাতের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক।

প্রতারণা থেকে সাবধান!

অন্নপূর্ণা যোজনার নাম ভাঙিয়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে ঠকানোর ফন্দি এঁটেছে। সম্প্রতি ভুয়া ওয়েবসাইট ও অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে প্রতারণার একাধিক ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন কড়া সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে যে, কোনো অচেনা বা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করে ভুলেও ওটিপি (OTP), ব্যাঙ্কের গোপনীয় তথ্য বা ব্যক্তিগত নথি শেয়ার করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি দফতর, অনুমোদিত পোর্টাল বা ভেরিফায়েড ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমেই সমস্ত ধরনের আবেদন বা অভিযোগ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *