রোজকার ব্যবহারের জন্য কোন সোনা সবচেয়ে ভালো? ১৪ ক্যারেট নাকি ১৮ ক্যারেট—জেনে নিন আসল সত্যিটা

রোজকার ব্যবহারের জন্য ১৪ ক্যারেট নাকি ১৮ ক্যারেট সোনা—কোনটি বেশি ভালো, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং কাজের ধরনের ওপর। ১৪ ক্যারেট সোনায় প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং ১৮ ক্যারেট সোনায় ৭৫ শতাংশ খাঁটি সোনা থাকে। বাকি অংশে অন্য ধাতু বা খাদ মেশানো হয়, যা মূলত গয়নাকে মজবুত করতে সাহায্য করে।

১. প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ১৪ ক্যারেট সোনা
প্রতিদিনের বা রোজকার ব্যবহারের জন্য ১৪ ক্যারেট সোনা বেশি ভালো। এতে খাদ বা অন্য ধাতুর পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে বলে গয়না সহজে টোকা খায় না বা তাতে সহজে আঁচড় পড়ে না। বিশেষ করে পাতলা আংটি, দৈনন্দিন ব্যবহারের চেইন বা হালকা ওজনের চুড়ির জন্য এই সোনা দারুণ উপযোগী।

২. আভিজাত্য ও উজ্জ্বলতার জন্য ১৮ ক্যারেট সোনা
সোনার উজ্জ্বল রঙ এবং খাঁটি উপাদানের আভিজাত্য যদি আপনার পছন্দ হয়, তবে ১৮ ক্যারেট সোনাই সেরা। বিশেষ করে হলুদ সোনায় ১৮ ক্যারেটের যে উজ্জ্বল ও রাজকীয় সোনালী আভা ফুটে ওঠে, তা সহজেই সকলের নজর কাড়ে। দেশের বড় বড় জুয়েলারি ব্র্যান্ডগুলি গয়না তৈরির ক্ষেত্রে এই সোনাই বেশি ব্যবহার করে থাকে।

৩. রঙের তারতম্য ও হোয়াইট/রোজ গোল্ড
হলুদ সোনার ক্ষেত্রে ক্যারেট অনুযায়ী রঙের ফারাক সহজে বোঝা গেলেও, হোয়াইট গোল্ড (White Gold) বা রোজ গোল্ডে (Rose Gold) তা একটু আলাদা হয়। এই ধরনের সোনায় খাদের ধরনের ওপর মূল রঙ নির্ভর করে। তাই কেবল ক্যাটাগরি বা ক্যারেট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, সামনাসামনি আসল গয়না দেখে তবেই নির্বাচন করা উচিত।

৪. স্থায়িত্ব নির্ভর করে তৈরির পদ্ধতির ওপর
গয়না কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা কেবল ক্যারেটের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা কীভাবে তৈরি করা হয়েছে তার ওপরও নির্ভর করে। গয়নার ভেতরটা ফাঁপা (Hollow) হলে তা ১৪ ক্যারেট হোক বা ১৮ ক্যারেট—দুটোই সামান্য চাপে সহজে দুমড়ে যেতে পারে। তাই কেনার সময় গয়নাটি নিরেট (Solid) কি না এবং তার সঠিক ওজন কত, তা অবশ্যই জেনে নেওয়া দরকার।

৫. দাগ ও পলিশের ধারণা
যেকোনো ধাতুর গয়নাতেই নিয়মিত ব্যবহারের ফলে হালকা দাগ পড়তে পারে। ১৪ ক্যারেট সোনা তুলনামূলক বেশি শক্ত হওয়ায় তাতে দাগ দেরিতে বোঝায়, আর ১৮ ক্যারেট সোনায় ব্যবহারের ছাপ একটু দ্রুত পড়তে পারে। তবে মনে রাখবেন, গয়না ঘন ঘন পলিশ করা একেবারেই ঠিক নয়, কারণ এতে সোনার কিছুটা ক্ষয় হয়। তাই সবসময় যত্ন সহকারে গয়না ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৬. হলমার্ক এবং রসিদের গুরুত্ব
গয়নায় ৫৮৫ (১৪ ক্যারেট) বা ৭৫০ (১৮ ক্যারেট) লেখা হলমার্ক দেখে সোনার মান বা বিশুদ্ধতা বোঝা যায়। তবে মনে রাখবেন, হলমার্ক কিন্তু গয়নাটি কতটা মজবুত তা নির্দেশ করে না। তাই কেনার সময় অবশ্যই পাকা রসিদ নিন এবং তাতে সোনা ও খাদের বিস্তারিত বিবরণ আলাদা করে জেনে নিন।

আপনার যে ধরনের গয়না পছন্দ এবং যা রোজকার ব্যবহারে সহজে নষ্ট হবে না, সেটাই কেনা উচিত। তাই ক্যারেট দেখার পাশাপাশি গয়নার তৈরির মান (মেকিং) দেখে তবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *