১১৫ টন পচা ফিশ সসের দুর্গন্ধ! কানাডার এই শহরে বছরের পর বছর নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছেন বাসিন্দারা

২০০০ সালের শুরুর দিকে একটি সস তৈরির কারখানায় তালা ঝোলে এবং চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় যাবতীয় কাজকর্ম। সেই সসটি আর পাঁচটা সাধারণ সস ছিল না, তা ছিল ‘ফিশ সস’ বা মাছের সস। তাজা অবস্থায় এটি সুস্বাদু হলেও, দিনের পর দিন বন্ধ কারখানায় অবহেলায় পড়ে থাকলে তা পচে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। ঠিক সেটাই ঘটেছিল এই ক্ষেত্রে। কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ ফিশ সস পচতে শুরু করে।
আইনি জটিলতা ও বিশাল পরিমাণ সস
উৎপাদিত সেই সস কে সরাবে এবং কার দায়—তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা তৈরি হয়। আইনি লড়াই চলতেই থাকে, আর এদিকে বন্ধ কারখানার ভেতরে সস পচতে থাকে। এর জেরে সবচেয়ে বেশি নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয় শহরের একটি বড় অংশের মানুষকে। কারণ পচে যাওয়া ওই সসের পরিমাণ ছিল অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। কানাডার সেন্ট মেরিজ (St. Marys) শহরে অবস্থিত ‘অ্যাটলান্টিক সি ফুড সস কোম্পানি’-র ওই বন্ধ কারখানায় বছরের পর বছর ধরে পচছিল টন টন ফিশ সস।
কোম্পানিটির ওই বন্ধ কারখানায় মজুত ছিল মোট ১১০টি ফিশ সসের ট্যাঙ্ক! প্রতিটি ট্যাঙ্কে ছিল ৩ হাজার গ্যালন করে সস (উল্লেখ্য, ১ গ্যালন সমান প্রায় ৩.৭ লিটার)। অর্থাৎ, এক একটি ট্যাঙ্কে কী পরিমাণ সস পচছিল, তা সহজেই অনুমেয়। আর এমন ১১০টি ট্যাঙ্কে একই পরিমাণ পচা সস মজুত থাকায় তার নারকীয় দুর্গন্ধ গোটা শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অসহ্য দুর্গন্ধ একদিন বা দুদিন নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে সহ্য করতে বাধ্য হয়েছিলেন শহরবাসী।
অবশেষে মুক্তির আলো
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই পচা সস সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুরোদমে কাজও শুরু হয়েছে। বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সস সরানো এবং তা নষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছে, যাতে অপসারণের সময় চারপাশের বাতাসে নতুন করে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে না পড়ে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সমস্ত পচা সস নিরাপদে সরিয়ে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।