‘জঙ্গিদের লালন-পালন করেছে পূর্বতন সরকার!’ নিউটাউনের শাপুর্জি থেকে খাগড়াগড় নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গ থেকেই মিলেছে জঙ্গি কার্যকলাপের বড়সড় সূত্র। জঙ্গিদের ‘স্ক্যানারে’ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রতিমন্ত্রীরাও। এই চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে একহাত নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে এই রাজ্যে জঙ্গিদের লালন-পালন করা হয়েছে এবং বাংলাকে ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে তোলা হয়েছিল।
পূর্বতন সরকারকে তীব্র তোপ দিলীপ ঘোষের
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর জম্মু-কাশ্মীর থেকে তামিলনাডু, আসাম থেকে গুজরাট—সর্বত্র জঙ্গি দমন শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ভারত থেকে মধ্য ভারত, পূর্ব ভারত যে মাওবাদী অধিকৃত অঞ্চল ছিল, তার অবসান ঘটেছে। কিন্তু মাওবাদীদের বা জঙ্গিদের শেষ ঘাঁটি ছিল পশ্চিমবঙ্গ। এখানে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জঙ্গিদের লালন-পালন করেছে। বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে এসে তাদের থাকার জায়গা দিয়েছে।’’
নিউটাউনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি যে নিউটাউনে দাঁড়িয়ে আছি, সেটা একসময় জঙ্গিদের ঘাঁটি ছিল। টেরোরিস্ট থেকে গ্যাংস্টার—এই শাপুর্জিতেই পাওয়া গেছে। মিজোরাম থেকে পাঞ্জাব—সব জায়গার অপরাধীরা ধরা পড়েছে। অথচ এদের মূল উপড়ে ফেলার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।’’
‘শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা’
বর্তমানে এই নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ায় জঙ্গিরা বদলা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সতর্কবার্তা, ‘‘এখন এদের শেষ ঘাঁটি যখন উপড়ে ফেলা হচ্ছে, তখন রিভেন্জ তো একটা নেবেই। সেই জন্য সরকারকে সাবধান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের সব এজেন্সিকে সতর্ক থাকতে হবে, নজর রাখতে হবে। শুধু নেতা নয়, সাধারণ মানুষের জীবনও খুব মূল্যবান। সাধারণ মানুষকেও একটু সতর্ক থাকতে হবে। শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে এরা পশ্চিমবঙ্গে। কারণ রাজনৈতিক ছাতার তলাতেই এরা বেড়ে উঠেছে। সেই ছাতা আমরা সরিয়ে নিয়েছি। তাই শেষ রিভেঞ্জ ওরা নেওয়ার চেষ্টা করবে, প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক আছে।’’
খাগড়াগড় থেকে নৈহাটি— অতীত বিস্ফোরণের স্মৃতি উস্কে আক্রমণ
অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘জঙ্গিদের শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। বহুদিন ধরে তারা এই ঘাঁটি তৈরি করেছে। খাগড়াগড় থেকে পিংলা, নৈহাটি কিংবা মালদা—বারুইপুর থেকে বীরভূম, বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে, জীবনহানি হয়েছে। মালদায় টোটোতে বিস্ফোরণ হয়েছে। গত ১০-১২ বছর ধরে এসব আমরা দেখেছি। তারও আগে বাম আমলে পাঞ্জাবের কালীয়ান টেরোরিস্টরা এখানে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে।’’
তৃণমূল সরকারের আমলকে কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘এই যে সরকার ছিল, এরা এদেরকে ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় বানিয়ে দিয়েছিল। ‘রেপিস্ট’ এবং ‘টেররিস্টদের’ গায়ে কোনোদিন হাত দেয়নি। তারা বুঝিয়ে দিয়েছিল—‘আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, শুধু ভোটটা করিয়ে দাও।’ বাংলাদেশ, নেপাল—চারিদিক থেকে ঢুকে এরা এখানে শেল্টার নিত। সেই জন্যই এরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করছে স্বাভাবিকভাবেই। তবে বর্তমান সরকার এটা কিছুতেই সফল হতে দেবে না।’’