গ্রামীণ বাংলায় বড় ধাক্কা! পঞ্চায়েতের প্রপার্টি ট্যাক্স ২৩৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১২০০ টাকা করল রাজ্য

পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে এক বড়সড় ও কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত দফতরের নতুন এসওপি (SOP) অনুযায়ী, এবার থেকে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি পিছু বার্ষিক প্রপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি করের লক্ষ্যমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতদিন প্রপার্টি ট্যাক্স বাবদ পরিবার পিছু বার্ষিক গড় আদায় মাত্র ২৩৩ টাকা থাকলেও, তা বাড়িয়ে সরাসরি ১২০০ টাকা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য। সরকারের এই পদক্ষেপে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও গ্রামবাসীর পকেটে যে বাড়তি আর্থিক টান পড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
বর্তমান পরিস্থিতি বনাম নতুন লক্ষ্য
একটি পঞ্চায়েত মূলত তার নিজস্ব সম্পদ ও বাসিন্দাদের সম্পত্তি কর থেকেই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ করে। রাজ্যের মোট ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ পরিবার থেকে বার্ষিক মোট ৪৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এতদিন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী পরিবার পিছু বার্ষিক গড় কর ছিল মাত্র ২৩৩ টাকা।
গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েতের এই আয় অত্যন্ত কম হওয়ায় রাজস্ব বাড়াতে এবার ৯৮৬ টাকা অতিরিক্ত কর নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে এখন থেকে প্রতিটি পরিবারকে বছরে বাধ্যতামূলকভাবে মোট ১২০০ টাকা কর দিতে হবে।
সময়সীমা ও কড়া নির্দেশিকা
পঞ্চায়েত দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রামবাসীদের কর জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণার পর প্রশাসন বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে:
-
সময়সীমা: আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে কর সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে হবে।
-
সুবিধা: করদাতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অফলাইনেও টাকা জমা নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
-
বকেয়াদের জন্য কড়াকড়ি: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা কর জমা দেবেন না, তাঁদের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করে অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে।
-
চূড়ান্ত পদক্ষেপ: এর পরেও যদি কেউ বকেয়া কর পরিশোধ না করেন, তবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত নিজেদের মধ্যে জরুরি বৈঠক করে কড়া আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সব মিলিয়ে, রাজস্ব বৃদ্ধির এই নতুন নিয়মের জেরে একদিকে যেমন গ্রামীণ স্তরে পঞ্চায়েতের কোষাগার মজবুত হবে, তেমনই সাধারণ গ্রামীণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।