জেন-জির মুখোমুখি সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত! মুম্বইয়ের এনএমএসিসিতে কোন বড় বার্তা দিতে চলেছেন আরএসএস প্রধান?

দেশজুড়ে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পথে পা বাড়াল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। আগামী ৬ আগস্ট মুম্বইয়ের নামী ‘নিতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার’ (NMACC)-এ সরাসরি দেশের নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি হতে চলেছেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ‘জেন জি’ (Gen Z) এবং ‘জেন আলফা’ (Gen Alpha)-র তরুণ-তরুণীদের মুখোমুখি বসে তাদের মতামত শোনা এবং দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার কথা রয়েছে তাঁর।
কেন এই বিশেষ আয়োজন?
‘ইন্ডিয়া’স ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস’ (IIMUN)-এর ১৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই শুরু হতে চলেছে তাদের বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্স। এবারের এই মহা-উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম বা ভাবনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ— “বিশ্বকে এক সূত্রে বাঁধার ভারতীয় পন্থায় যুব সমাজের ভূমিকা”।
এই সম্মেলনে দেশের ১০০টিরও বেশি শহর থেকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ২,০০০-এর বেশি হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রী অংশ নিচ্ছে। স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এখানে চলবে তরুণ প্রজন্মের যুক্তিতর্ক ও বিতর্ক।
কী বললেন IIMUN-এর প্রতিষ্ঠাতা?
এই বিশেষ উদ্যোগ প্রসঙ্গে IIMUN-এর প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহ বলেন, “নেতৃত্ব মানে শুধু পরের প্রজন্মকে পথ দেখানো নয়, তাদের কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনা। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এই আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। আমরা কৃতজ্ঞ যে মোহন ভাগবতজি আমাদের আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেছেন।”
সংস্থার বিশাল পরিধি ও গুরুত্ব
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্ল্যাটফর্মটি গত দেড় দশক ধরে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছে। সংস্থার উপদেষ্টা বোর্ডে অজয় পিরামল, দীপক পারেখ, নাদির গোদরেজ, শশী থারুর, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, করণ জোহর এবং পিটি ঊষা-র মতো দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে ভারতের ২৭৫টি শহর ও ৪০টি দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার স্কুল-কলেজের ৭.৫ কোটিরও বেশি তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছে গেছে এই সংস্থা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সঙ্ঘ প্রধানের এই ‘জেন জি’ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের ভাবনাকে কাছাকাছি থেকে অনুধাবন করার প্রচেষ্টা আগামী দিনে দেশের যুবসমাজকে এক নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।