“আমি ৭ দিন সময় নিলাম!” তিলোত্তমার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীর আগে কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন রত্না দেবনাথ?

ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে ফের দোরগোড়ায় এসে হাজির সেই অভিশপ্ত অগস্ট মাস। আর তাতেই বয়ে এল তিলোত্তমার মৃত্যুর সেই দুঃসহ ও মর্মান্তিক স্মৃতি। আজ থেকে দু’বছর আগের ৮ অগস্টের সেই ভয়াবহ রাতে কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালের সেমিনার হলে পৈশাচিক অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া তিলোত্তমা। সেই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। আজও মেয়ের বিচারের আশার পথ চেয়ে বুকফাটা কান্নায় দিন কাটছে বাবা-মায়ের। সময়ের সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও, তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ আজ পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও একমাত্র সন্তান হারানোর শূন্যতা ও বুকের জ্বালা একচুলও কমে নি। আর ঠিক এই শোকের দিনগুলোর মুখোমুখি হওয়ার আগেই এক বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
সাত দিনের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিলেন রত্না দেবনাথ
মেয়ে হারানোর সেই ভয়াবহ দিনটি বা দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ফিরে আসার ঠিক প্রাক্কালে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গতা ও একান্তেই সময় কাটাতে চান রত্না দেবী। জীবনের এই কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোতে তিনি বাইরের সমস্ত দুনিয়া ও যোগাযোগ থেকে নিজেকে একেবারে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে একটি বিশেষ বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “আমি আপনাদের থেকে সাত দিন আমার ব্যক্তিগত কারণে চেয়ে নিচ্ছি। আগামী সাতদিন আমি ফোনে বা সরাসরি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব না। কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত না থাকার আর্জি জানাচ্ছি।”
কার্যালয়ের কাজ যথারীতি চলবে
বিধায়ক ও মা হিসেবে নিজের এই ব্যক্তিগত অনুপস্থিতির সময়েও সাধারণ মানুষের কাজ বা পরিষেবা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও তিনি নজর রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর ‘জনতার কার্যালয়ে’ দপ্তরের কাজকর্ম নির্দিষ্ট নিয়মেই সচল থাকবে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের সময় সেখানে যোগাযোগ করতে পারবেন। পরিশেষে এই ক’দিন সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে না পারার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে মার্জনা চেয়ে নিয়েছেন। আরজি কর কাণ্ডের সেই কালো দিনটির দুই বছর পূর্তির ঠিক আগে মায়ের এই বুকচাপা কষ্ট ও নিঃসঙ্গতা পাওয়ার আকুতি ফের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে রাজ্যবাসীকে।