বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনলেও বাঁচানো গেল না! কানহা উদ্যানের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা বন্যপ্রাণীর তাণ্ডবে শোকের ছায়া

মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় কানহা জাতীয় উদ্যানের বাফার জোন সংলগ্ন একটি গ্রামে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। গভীর রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা এক মধ্যবয়স্কা মহিলাকে আক্রমণ করে হত্যা করল একটি বন্য বাঘ। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা অবিলম্বে ওই বাঘটিকে পাকড়াও করার দাবি তুলেছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিনের রাতে?

বালাঘাট জেলার বাইহার এলাকার পারাপুর বাইগাতোলা গ্রামের ঘটনা এটি। মৃত মহিলার নাম সুগ্নি বাই ধুরভে (৪৫)। গত শনিবার রাতে তিনি ও তাঁর স্বামী বুধরাম ধুরভে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ওই বাড়িটিতে কোনো দরজা না থাকার সুযোগ নিয়ে রাত দেড়টা নাগাদ জঙ্গল থেকে পথ হারিয়ে একটি বাঘ সরাসরি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।

ঘুমন্ত অবস্থায় বাঘটি সুগ্নি বাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁর মাথা ও মুখ কামড়ে ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন যে, অতর্কিত এই আক্রমণে সবাই ঘাবড়ে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। টর্চ জ্বালিয়ে এবং হইচই করে গ্রামবাসীরাও ছুটে আসেন। মানুষের গলার আওয়াজ ও শোরগোলে ভয় পেয়ে বাঘটি বাড়ি থেকে সামান্য দূরে এক জলাভূমির কাছে মহিলাটিকে ফেলে রেখে ফের জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালে মৃত্যু ও গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত সুগ্নি বাইকে দ্রুত বাইহার সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, বাঘের হামলায় মহিলার মাথায় ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।

রবিবার ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ দেখান এবং অবিলম্বে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। তাঁরা পরিবারটির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫০,০০০ টাকা ত্রাণের দাবি করেন। পরবর্তীতে বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫,০০০ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি মৃতের পরিবারের একজনের চাকরি এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় বন দপ্তরের টহলদারি আরও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *