হানিট্র্যাপের ভয়ংকর চক্র? জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা পাকড়াও হতেই উন্মোচিত চাঞ্চল্যকর তথ্য!

জঙ্গিদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ এবং দেশবিরোধী নাশকতার ছক কষার অভিযোগে এবার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF-এর জালে ধরা পড়ল জইশ জঙ্গি সন্দেহভাজন হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকার। শুক্রবার রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। রাতেই তাকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের দাবি, হানিট্র্যাপের (Honeytrap) ফাঁদ পেতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেল করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতানোর বড়সড় অ্যাসাইনমেন্ট ছিল এই অর্পিতার কাঁধে।

শুক্রবার গ্রেপ্তার হয়েছিল হামিম মণ্ডল

এর আগে শুক্রবারই বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোয়েন্দাদের তীব্র সন্দেহ, ধৃত হামিমের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের গভীর যোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গেও তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য পাকিস্তানের গুপ্তচরদের হাতে তুলে দেওয়া। এই আন্তর্জাতিক চক্রের পিছনে ঠিক কারা জড়িত, তা বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এসটিএফ।

হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদ পাতা ছিল কাজ

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুরো নাশকতার ছকে অর্পিতাকে মূলত একটি ‘টোপ’ বা ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, হানিট্র্যাপের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করত অর্পিতা। এরপর যৌনতার ফাঁদে ফেলে তাঁদের সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলত। হামিমকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। আর সেই হামিমকেই ম্যারাথন জেরা করেই অর্পিতার নাম এবং তার ঠিকানা জানতে পারেন তদন্তকারীরা। এরপরই ঝাড়খণ্ডে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাকড়াও করা হয় তাকে। এখন এই দুই অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে আর কোন কোন গোপন তথ্য বেরিয়ে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা দেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *