নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ! দ্রুত বিচার সেরে রায় দানে ৫টি নতুন ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন হাইকোর্টের

কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের অন্যতম সংবেদনশীল এবং আলোচিত নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মোট পাঁচটি বিশেষ দ্রুতগতির বা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত (Fast-Track Courts) গঠনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ আদালতগুলোর মধ্যে তিনটি আদালত কলকাতা শহরে এবং বাকি দুটি আদালত আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারে স্থাপন করা হবে। হাইকোর্টের এই সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আদালতগুলো মূলত ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর বিধান অনুযায়ী সমস্ত মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করবে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিলের তারিখ থেকে মাত্র তিন মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে বাধ্য থাকবে।
মামলার পটভূমি ও আইনি কঠোরতা
বর্তমানে সারা দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও প্রবেশিকা লোকপরীক্ষায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা আইনি লড়াইকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে জাতীয় যোগ্যতা তথা প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে তীব্র বিক্ষোভ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। যার পরোক্ষ প্রভাবে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারির পরেই কেন্দ্রীয় সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধকে একটি সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিশেষ আদালতের এখতিয়ার ও কার্যপ্রণালী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্বের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে গত ২৯ জুলাই এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নতুন গঠিত বিশেষ দ্রুতগতির আদালতগুলোর মর্যাদা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে কর্মরত সাধারণ ৮৮টি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের সমতুল্য হবে না, বরং এগুলোর এখতিয়ার সম্পূর্ণ আলাদা হবে।
প্রধানত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) এবং রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখাগুলির দ্বারা পরিচালিত লোকপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সমস্ত জটিল মামলার বিচার কাজ এই বিশেষ আদালতগুলোর মাধ্যমেই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে একাধিক অভিযুক্ত ও জটিল ডিজিটাল ফোরেনসিক প্রমাণযুক্ত মামলাগুলির দীর্ঘমেয়াদি বিলম্ব অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।