২০২৭ সালে পাকিস্তানে এসসিও সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! বড় ইঙ্গিত দিল ইসলামাবাদ

ইসলামাবাদে বসতে চলেছে ২০২৭ সালের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনের আসর। আর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন যে, এই সম্মেলনে এসসিও-র সকল সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়মমাফিক আমন্ত্রণ জানানো হবে।

মুখপাত্র স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সদস্য দেশগুলোর সকল রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানই এই বৈঠকে অংশ নেবেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অন্তর্ভুক্ত থাকছেন। এসসিও-র নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও প্রোটোকল মেনে সকল সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানোই আয়োজক দেশের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছে পাকিস্তান।

এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে জল্পনা
ম্যানিলায় আসিয়ান (ASEAN) বৈঠকের ফাঁকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে কোনো সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছিল। এপ্রসঙ্গে পাকিস্তানি মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকের অনুরোধ বা প্রস্তাব আসার বিষয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ অব্দি অবগত নন। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই মেগা এসসিও শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। এসসিও-র বহুপাক্ষিক কাঠামোর অংশ হিসেবেই সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই ধরনের কূটনৈতিক আমন্ত্রণ আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে।

এসসিও (SCO) সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য:
গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম: এসসিও শীর্ষ সম্মেলন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

সদস্য রাষ্ট্রসমূহ: এই সংস্থার সদস্য দেশগুলো হলো— চিন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান এবং বেলারুশ।

প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য: ২০০১ সালের ১৫ জুন বেজিংয়ে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ইউরেশীয় অঞ্চলে শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

সভাপতিত্ব: সংস্থাটির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অঙ্গ হলো ‘কাউন্সিল অফ হেডস অফ স্টেট’ (CHS)। এর সভাপতিত্ব সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট বছরের আয়োজক দেশই এই দায়িত্ব পালন করে।

পাকিস্তানের সভাপতিত্ব ও ভারতের অংশগ্রহণ
১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামাবাদ এসসিও-র বর্তমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে এবং এই সময়ের মধ্যেই তারা রাষ্ট্রপ্রধানদের এই বহুল প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। এর আগে ২০২৩ সালে ভারত সফলভাবে এসসিও-র সভাপতিত্ব করেছিল। ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নানান টানাপোড়েনের মধ্যে সীমিত পর্যায়ে থাকলেও, নয়াদিল্লি এই সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরেও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও-র একটি বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *