প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও ডিলিট করতেই বড় বিপাকে মেটা! ক্ষমা চেয়ে ভারতের জন্য আনল একেবারে নতুন প্রোটোকল

ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। এই ঘটনার জেরে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রও। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেটা জানিয়েছে যে, এখন থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টগুলির সুরক্ষায় তারা নতুন প্রোটোকল অনুসরণ করবে। এমনকি সরকারের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও নীতিগত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে মেটার গ্লোবাল বা বিশ্বব্যাপী কর্মকর্তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত সফর করবেন।

সরকারের তলব ও মেটার ক্ষমা প্রার্থনা
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দেওয়ার ঘটনার পরই গত মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে মেটার এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার কাছ থেকে নীতি ও প্রযুক্তিগত—উভয় দিক থেকেই স্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা এই অনভিপ্রেত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার কড়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ভিআইপি বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা যেকোনো বিষয়বস্তু কোম্পানির একাধিক স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার আওতায় রাখা হবে।

পুরো ঘটনাটি আসলে কী ছিল?
গত ২৩শে জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বার্তাটি প্রথমে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হলেও পরে তা ফেসবুকে আপলোড করা হয়। কিন্তু আচমকাই মেটা ওই পোস্টটি ব্লক করে দেয়।

ঘটনার পরই দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হলে মেটা জানায় যে, তাদের স্বয়ংক্রিয় এআই কন্টেন্ট ফিল্টারের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মুছে ফেলা কন্টেন্টটি পুনরুদ্ধার করা হলেও, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার এই সাফাইকে অপর্যাপ্ত ও অসন্তোষজনক বলে মনে করে।

নজরদারিতে মেটা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বিতর্ক
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একাধিক নিয়ন্ত্রক ও নীতিগত ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া নজরে রয়েছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম ফিচারের তীব্র বিরোধিতা করেছিল সরকার। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল যে এই ফিচারটি চালু হলে অনলাইন প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, ইনস্টাগ্রামে আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছড়ানোর অভিযোগে সম্প্রতি মেটাকে একটি সরকারি নোটিশও জারি করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *