“আদেশ মানা হচ্ছে না কেন?” ভোজশালায় জুমার নামাজের বিকল্প স্থান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তুমুল সওয়াল-জবাব!

মধ্যপ্রদেশের ধর-এ অবস্থিত বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরের কাছে জুমার নামাজের জন্য একটি উপযুক্ত বিকল্প স্থান প্রদানের বিষয়ে আদালতের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে। এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চালাচ্ছেন।
আদালতের নির্দেশ না মানার অভিযোগ
এর আগে গত ১৪ জুলাই শীর্ষ আদালত এক অন্তর্বর্তী নির্দেশিকায় মধ্যপ্রদেশ সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সের কাছাকাছি কোনো খোলা জায়গায় দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে জুমার নামাজের জন্য একটি পৃথক স্থান বরাদ্দ করতে হবে।
তবে মুসলিম পক্ষের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন সেই নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের দাবি, নামাজের জন্য যে জায়গাটি দেওয়া হয়েছে তা মূল স্থান থেকে ১.৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং জেলা কালেক্টরের নির্দেশ অনুযায়ী কেবল ওই নির্দিষ্ট জায়গাটিই বেছে নিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবীদের সওয়াল ও বিতর্কিত জমির প্রসঙ্গ
গতকাল আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার প্রাক্কালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হুজেফা আহমাদি বিষয়টি বেঞ্চের সামনে উত্থাপন করেন। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তখন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনি আহমাদিকে একটি বিকল্প জায়গা দিচ্ছেন না কেন?” জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান যে প্রশাসন ইতিমধ্যেই অন্য একটি উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করেছে।
তবে এই প্রস্তাবিত জায়গার তীব্র বিরোধিতা করে মুসলিম পক্ষের আইনজীবীরা জানান, ওই স্থানটি কেবল অনেক দূরেই নয়, বরং তা একটি মদের কারখানার অংশ। তাদের পালটা প্রস্তাব, ভোজশালা চত্বরের কাছেই একটি দরগাহ এবং তার সংলগ্ন খালি জমি রয়েছে, যা নামাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে। মুসলিম পক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য, তারা কোনো অবস্থাতেই একপেশে আধিপত্যের কাছে মাথা নত করবে না। এই স্পর্শকাতর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত রায়ের দিকে এখন দেশজুড়ে সকলের নজর রয়েছে।