স্ট্রোকের রোগীকে ‘মদ্যপ’ ভেবে ৫ ঘণ্টা থানায় আটক রাখল পুলিশ! চিকিৎসায় দেরিতে ডান দিক অবশ বৃদ্ধের, তুঙ্গে বিতর্ক

মুম্বাইয়ের ভার্সোভা এলাকায় পুলিশের চরম সংবেদনহীনতা ও গুরুতর অবহেলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। গাড়ি চালানোর সময় ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ভুল সন্দেহে টানা পাঁচ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় বর্তমানে ওই বৃদ্ধের শরীরের ডান পাশ পুরোপুরি অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার এবং দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জোরালো হয়েছে।
আসলে কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভার্সোভায় একা বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী শারদ কদমের স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে কানাডায় থাকেন। গত ২৫শে জুলাই সকাল ৯টার দিকে গাড়ি চালানোর সময় আচমকাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন শারদবাবু। যার ফলে তাঁর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ, স্ট্রোকের জেরে শারদ কদমের গলার স্বর জড়িয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও অন্য একটি গাড়িতে থাকা এক চিকিৎসক তাঁর বয়স এবং শারীরিক লক্ষণগুলিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন। ব্রেথলাইজার পরীক্ষা না করেই পুলিশ তাঁকে ‘মদ্যপ’ ধরে নিয়ে সোজা ভার্সোভা থানায় নিয়ে যায় এবং চিকিৎসা সহায়তা না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখে।
পুলিশের এফআইআর ও রক্ত পরীক্ষার বিতর্ক
ঘটনার পর এক কনস্টেবলের অভিযোগের ভিত্তিতে শারদ কাদমের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে কদম সাহেবের মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছিল এবং এফআইআর দায়েরের পর তাঁকে কুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি চিকিৎসকদের কাছে মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। যদিও পরিবারের পালটা দাবি, ব্লাড অ্যালকোহল টেস্টের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও হাতে আসেনি।
চিকিৎসায় বিলম্ব এবং পক্ষাঘাতের করুণ পরিণতি
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রাত ৮টার দিকে শারদ কদমকে কুপার হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আন্ধেরি পশ্চিমের নানাবতী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। আন্ধেরি পশ্চিমের কাউন্সিলর তথা কদমের ভাগ্নে রোহান রাঠোড় জানান, তাঁদের এক আইনজীবী আত্মীয় থানায় এসে কদম সাহেবকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি পুলিশকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের স্পষ্ট লক্ষণ, কিন্তু পুলিশ তাঁর কথায় কান না দিয়ে মদের নেশার জিগির তোলে। চিকিৎসায় এই দীর্ঘ ও অমানবিক বিলম্বের ফলেই শারদ কদমের শরীরের ডান পাশ প্যারালাইজড বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়।
রাজনৈতিক চাপ ও তদন্ত শুরু
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে বিজেপি বিধায়ক অমিত সাতাম ভার্সোভা থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) পুরুষোত্তম কারাদের কাছে লিখিত চিঠি পাঠান। পাশাপাশি, তিনি ভার্সোভা থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর দীপশিকা ওয়ারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। স্ট্রোকের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও কেন ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানায় আটকে রাখা হলো, তা নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।