বিধায়ক নন, তবুও মন্ত্রী পদে বহাল! সাংবিধানিক বিধিভঙ্গ নিয়ে বিহার সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া তলব

সংবিধানের নিয়ম লঙ্ঘন করে বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে একজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে বিহার সরকারের কাছে কড়া জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিহারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি বিশেষ পিটিশনের শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ওঠে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৬৪(৪) ও আইনি প্রশ্ন
আবেদনে সংবিধানে থাকা ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে যদি বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্যপদ লাভ করতে না পারেন, তবে তিনি আর মন্ত্রিত্বে থাকতে পারবেন না। মামলাকারীর দাবি, দীপক প্রকাশের ক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি দিব্যি মন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এটি সম্পূর্ণ একটি গুরুতর আইনগত প্রশ্ন। রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কীভাবে একজন অনির্বাচিত ব্যক্তি নির্ধারিত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিষয়টি আইনি বিবেচনার অধীনে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে তৈরি হয়েছে এই জটিলতা?
রাজনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে কোনো রকম বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হওয়াতেই নীতীশ কুমারের তৎকালীন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল দীপক প্রকাশকে। পরবর্তীতে নতুন সরকার গঠিত হলে তিনি গত ১৫ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা সরকারি পদে ছিলেন না।

কিন্তু চলতি বছরের ৭ মে, ফের বিধানসভার সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে পুনরায় মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৬৪(৪) অনুযায়ী একজন ব্যক্তি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনে না জিতেও মন্ত্রী থাকতে পারলেও, বর্তমান হিসেবে দীপক প্রকাশ ইতিমধ্যে সেই মেয়াদের চার মাস এবং ২৬ দিন অতিক্রম করে ফেলেছেন। আদালতের এই কড়া অবস্থানের ফলে বিহার সরকারের রাজনৈতিক অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *