সংসদে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল! বড় সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দপ্তরে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সংসদের উভয় কক্ষে বিরোধী সাংসদদের তুমুল হট্টগোল ও প্রতিবাদের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ, ক্রমবর্ধমান উপসাগরীয় সংকট এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত নিরাপত্তা সহ একাধিক জ্বলন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালও।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয় সরকারের নজরে রয়েছে। একদিকে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের কথিত নৃশংসতার ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের জেরে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ—সবকিছু নিয়েই এই বৈঠকে গভীর পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী সংকট কীভাবে সামলানো যায়, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল তৈরি করাই ছিল এই বৈঠকের অন্যতম মূল লক্ষ্য।
এদিকে, এই বৈঠকের সমান্তরালেই এদিন টানা অষ্টম দিনের মতো উত্তপ্ত ও ব্যাহত হয় সংসদের কার্যক্রম। বিরোধীদের লাগাতার হট্টগোলের জেরে লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব ভেস্তে যায় এবং অধিবেশন দুপুর দুটো পর্যন্ত মুলতবি করতে হয়। পরবর্তী সময়ে রাজ্যসভায় ‘অ্যান্টি-পেপার লিক বিল’ বা প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। মূলত কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক এবং দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় থাকায় সংসদের অচলাবস্থা কাটেনি।