৭০% স্কুলেই নেই ল্যাব! তবুও নবম-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সায়েন্স প্র্যাক্টিক্যাল বাধ্যতামূলক করল বিহার সরকার

বিহারের সরকারি স্কুলগুলিতে বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও আধুনিক, পরীক্ষাগার-ভিত্তিক এবং যুগোপযোগী করে তুলতে এক বিরাট পদক্ষেপ করল শিক্ষা বিভাগ। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এবার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্যবহারিক ক্লাস (Practical Class) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি এবার পড়ুয়ারা হাতে-কলমে সায়েন্স প্র্যাক্টিকাল করার সুযোগ পাবে।

তবে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিহারে মোট ১২,০৪৭টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও, তার মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি স্কুলে কোনও বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিই নেই। রাজ্যে এই মুহূর্তে মাত্র ৩,১৩২টি স্কুলে সুসজ্জিত সায়েন্স ল্যাব রয়েছে। এই পরিকাঠামো সংকট কাটিয়ে কীভাবে পড়ুয়াদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে, তা নিয়ে বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

রাজ্যজুড়ে নতুন বিজ্ঞান পরীক্ষাগার তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। স্কুলগুলিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ল্যাবের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান ল্যাব স্থাপনের ক্ষেত্রে পৃথক মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলিকে বিকার, মাইক্রোস্কোপ, ভার্নিয়ার ক্যালিপার, স্পেকট্রোমিটার, টেস্ট টিউব, বিভিন্ন রাসায়নিক ও স্লাইড কিনে নিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি, যে সমস্ত স্কুলে এখনও নিজস্ব পরীক্ষাগার তৈরি হয়নি, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। নতুন ল্যাব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পড়ুয়াদের সুবিধার্থে পার্শ্ববর্তী অন্য স্কুলের সাহায্য নিয়ে ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। পুরো এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখতে এসসিইআরটি (SCERT) এবং ডিআইইটি (DIET)-এর বিশেষজ্ঞরা স্কুলগুলিকে সহায়তা করবেন। সরঞ্জাম কেনা থেকে শুরু করে ল্যাব পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্কুল পরিচালনা কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *