AC-রিমোটে এই সুইচ চিপবেন না ভুল করেও, হু হু করে বেড়ে যাবে ইলেকট্রিক বিল

বর্ষার দিনেও ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে বাঁচতে ঘরের এসি-র রিমোটের বোতাম টেপা যেন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সারাদিন পরিশ্রমের পর বাড়ি ফিরে এসির ঠান্ডা হাওয়ায় একটু জিরিয়ে নিতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। কিন্তু মাস ঘুরতেই যখন মোটা অঙ্কের ইলেকট্রিক বিল হাতে এসে পৌঁছায়, তখন চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়। আপনিও কি অতিরিক্ত বিল নিয়ে চিন্তায় থাকেন? তাহলে জেনে রাখুন, ভুল করেও এসি-র রিমোটে একটি নির্দিষ্ট সুইচ বা মোড ব্যবহার করা চলবে না। তা না হলে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট বিল থেকে আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
কোন সুইচ বা মোডের কথা বলা হচ্ছে?
বেশিরভাগ এসির কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, রিমোট অন করার পর প্রথমে ভিতরের ইউনিটের ব্লোয়ার চালু হয় এবং তার প্রায় ১ থেকে ২ মিনিট পর কম্প্রেসার চালু হয়। কম্প্রেসার চালু হলেই এসি ঘর ঠান্ডা করা শুরু করে।
কিন্তু তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে অনেকেই ঘরে ঢুকেই রিমোটের ‘টার্বো মোড’ (Turbo Mode) বা ‘পাওয়ারফুল মোড’ (Powerful Mode) চালু করে দেন। অনেকেই মনে করেন, এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ঘর ঠান্ডা করা সম্ভব। কিন্তু এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনাকে চড়া মূল্য চোকাতে হয়।
কেন টার্বো মোড বিপজ্জনক?
-
দ্রুত ঘর ঠান্ডা হলেও বিল বাড়ে: এসি-তে টার্বো মোড চালু করলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কম্প্রেসারকে পূর্ণ শক্তিতে চালু করে দেয়। এর ফলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হলেও বিদ্যুৎ খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
-
অতিরিক্ত শক্তির ব্যবহার: টার্বো মোড সাধারণ মোডের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ টানে। যদিও অনেক এসিতে এই মোডটি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবুও এই অল্প সময়েই তা মিটার ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
-
কখন টার্বো মোড ব্যবহার করা উচিত? মূলত ঘরের তাপমাত্রা যখন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে চলে যায় এবং আপনার চরম ও তাৎক্ষণিক ঠান্ডার প্রয়োজন হয়, তখনই এই মোডটি ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহারে এটি চালু রাখলেই আপনার ইলেকট্রিক বিল দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
তাই আগামী দিনে এসি চালানোর সময় এই ছোট্ট ভুলটি এড়িয়ে চলুন। ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মোড বা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি সেট করলেই ঠান্ডা যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনই পকেটও সুরক্ষিত থাকবে!