ছয় দশকের রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান! ভারত কি এখন পুরোপুরি নকশাল মুক্ত?

প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ হিংসা ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়ে নকশালবাদ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হল ভারত। রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, দেশের আর একটি জেলাও বর্তমানে নকশাল উপদ্রুত হিসেবে তালিকাভুক্ত নেই। একসময় যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেই মাওবাদী সন্ত্রাসের মানচিত্র এবার পুরোপুরি শূন্যে এসে ঠেকল।
কমতে কমতে শূন্যে নামল নকশাল প্রভাবিত জেলার সংখ্যা
কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নকশাল দমনে এসেছে ঐতিহাসিক সাফল্য:
এপ্রিল ২০১৮: ১২৬টি জেলা
জুলাই ২০২১: ৭০টি জেলা
এপ্রিল ২০২৪: ৩৮টি জেলা
ডিসেম্বর ২০২৫: ৮টি জেলা
মার্চ-এপ্রিল ২০২৬: ০টি (শূন্য) জেলা
একসময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি কাটিয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তালিকায় একটি জেলাও নকশাল উপদ্রুত হিসেবে অবশিষ্ট নেই। তবে চরমপন্থা যাতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য দেশের ৩৭টি জেলাকে ‘লিগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ (Legacy & Thrust) হিসেবে রেখে সেখানে নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক সহায়তা জারি রাখা হয়েছে।
মিছির বেসরার গ্রেফতারি এবং অবসান পর্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তালিকায় ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলাটিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত রাখা হয়েছিল। সেখানেও মাওবাদীদের সাংগঠনিক পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। সম্প্রতি সারান্ডা জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা ৬৪ বছরের শীর্ষ মাওবাদী পলিটব্যুরো নেতা মিছির বেসরা নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়ার পর সেই অধ্যায়েরও পাকাপাকিভাবে অবসান ঘটেছে। এর ফলে শীর্ষ মাওবাদী নেতৃত্বের উপস্থিতিও এখন সম্পূর্ণ শূন্য।
সহিংসতার গ্রাফ ও নিরাপত্তা ক্যাম্প থেকে জন সুবিধা কেন্দ্র
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালেও যেখানে মাওবাদী হিংসার ৪৮৬টি ঘটনা ঘটেছিল (যাতে ১০৭ জন নাগরিক ও ৩২ জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছিলেন), সেখানে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সেই হিংসার ঘটনা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩টিতে। প্রাণহানির সংখ্যাও নেমে এসেছে নজিরবিহীনভাবে নিচে।
এদিকে, নকশালমুক্ত এলাকাগুলিতে উন্নয়নের নতুন জোয়ার এনেছে কেন্দ্র। নিরাপত্তার স্বার্থে তৈরি করা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পগুলির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তুলে নিয়ে সেগুলিকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘জন সুবিধা কেন্দ্র’ (Jan Suvidha Kendra)-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য পরিষেবা, কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল পরিষেবা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাচ্ছেন। ছত্তীসগড়ের জগদলপুরের নেতানারে তৈরি ‘শহিদ বীর গুন্ডাধুর সেবা ডেরা কেন্দ্র’ এই প্রকল্পের দেশের প্রথম সফল রূপায়ণ।