মাঝরাতে সিপিএম সদর দফতরে সাদা পোশাকের পুলিশ! ঐশী ঘোষকে গ্রেফতারের চেষ্টায় উত্তাল সংসদ!

এসএফআই (SFI) নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দিল্লি পুলিশ গায়ের জোরে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এ কে গোপালন ভবনে প্রবেশ করেছে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে সিপিআই(এম)। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাজপথ থেকে সংসদ—সর্বত্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যসভায় বামেদের পাশাপাশি কংগ্রেস ও তৃণমূল সহ সমগ্র ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বাম সাংসদরা। তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষও।
“প্রতিশোধ নিতেই এই মধ্যরাতের হানা”
বুধবার রাজ্যসভায় বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। অভিযোগের সুরে তিনি জানান:
অবৈধ হানা: মঙ্গলবার রাতে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই সিপিএম সদর দফতরে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে।
বদলার রাজনীতি: সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছিলেন ঐশী। সেই কারণেই সম্পূর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে রাজনৈতিক দলের সদর দফতরে এই হানা চালানো হয়েছে।
ভীতি প্রদর্শন: ভারতে কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সদর দফতরে এভাবে পুলিশি হানার নজির নেই। দলীয় কর্মীদের ভয় পেতেই প্রশাসন এই খেলা খেলছে।
সিপিএমের সুরেই সুর মিলিয়ে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের দফতরে পুলিশের এই তাণ্ডব প্রমাণ করে যে দেশে গণতন্ত্র আর নিরাপদ হাতে নেই।”
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রুটিন তল্লাশি!”—উত্তরে যা বললেন নাড্ডা
বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যসভায় শাসকদলের দলনেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা।
পয়েন্ট তুলে ধরে তিনি দাবি করেন:
রুটিন চেকআপ: এটি পুলিশের একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া ছিল।
পুরোনো মামলা: ২০২১ সালের একটি পুরোনো মামলার সূত্র ধরেই পুলিশ ঐশী ঘোষের খোঁজে সিপিএম কার্যালয়ে গিয়েছিল।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: নাড্ডা বলেন, “আমি যখন ছাত্রনেতা ছিলাম, কংগ্রেস সরকারের আমলে আমাকেও দু’বার গ্রেফতার হতে হয়েছিল। ফলে ছাত্রনেতাদের গ্রেফতারি কোনো নতুন বিষয় নয়। বিরোধীরা তিলকে তাল করছেন।”
দিল্লি পুলিশের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের একটি দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের স্বার্থেই মঙ্গলবার রাতের ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।
ইন্ডিয়া জোটের এককাট্টা প্রতিবাদ
সংসদ চত্বরের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, “ছাত্রদের ওপর যেভাবে হামলা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে আমরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে এই লড়াই চলবে।”
রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে মাঝরাতে সিপিএম দফতরে পুলিশের এই হানার ঘটনা নতুন করে দিল্লি রাজনীতির পারদ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।