“ঘ্যানঘ্যান না করে হার স্বীকার করুন!” পিওকে-র ভোটে জিততেই বিলাওয়ালকে চরম কটাক্ষ মরিয়মের!

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ফল প্রকাশের পরপরই পাকিস্তানের রাজনীতিতে গৃহযুদ্ধ চরমে উঠেছে। নির্বাচনে বড় অঙ্কের কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। অন্যদিকে, তাঁর এই দাবিকে পাত্তাই দেননি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তথা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (PML-N) নেত্রী মরিয়ম নওয়াজ। বিলাওয়ালকে সোজা ভাষায় হার মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, “ঘ্যানঘ্যান না করে পিপিপির উচিত খোলা মনে পরাজয় স্বীকার করা।”

“কারচুপির ইতিহাস তো আপনাদেরই!”—গর্জে উঠলেন মরিয়ম
বিলাওয়াল ভুট্টোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে একটি ভিডিও বার্তায় মরিয়ম নওয়াজ বলেন:

জনগণের রায়: নির্বাচনে কোনো রাষ্ট্র বা এজেন্সি নয়, সাধারণ জনগণই সিদ্ধান্ত নেয়।

অনিয়মের ইতিহাস: যাঁরা আজ কারচুপির বুলি আওড়াচ্ছেন, তাঁদের নিজেদেরই রাজনৈতিক ইতিহাস নির্বাচনী অনিয়মে ভরা।

আত্মসমালোচনার পরামর্শ: কারচুপির কোনো প্রমাণ নেই। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পিপিপির উচিত জনরায়কে সম্মান জানানো এবং নিজেদের ব্যর্থতার আত্মসমালোচনা করা।

মরিয়ম আরও কটাক্ষ করে বলেন, পিপিপি বিগত ১৭ বছর ধরে সিন্ধু প্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে, অথচ সেখানে সড়ক, স্যানিটেশন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ন্যূনতম উন্নতি করতে পারেনি। বিলাওয়াল তাঁর প্রচারে নিজেদের কোনো সাফল্যের কথা তুলে ধরতেই ব্যর্থ হয়েছেন।

কী অভিযোগ তুলেছিলেন বিলাওয়াল ভুট্টো?
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের এই নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল PML-N ৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, মীরপুর অঞ্চলের ১৩টি আসনের মধ্যে বিলাওয়ালের PPP পেয়েছে মাত্র ৪টি আসন।

এর পরেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিলাওয়াল ভুট্টো। তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটের বিচারে পিপিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া উচিত ছিল। রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি পিএমএল-এন-এর স্বার্থ?”

পাশে দাঁড়ালেন পাক সরকারের মন্ত্রীরাও
মরিয়ম নওয়াজের সুরেই সুর মিলিয়েছেন পাকিস্তানের একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

আহসান ইকবাল (পরিকল্পনা মন্ত্রী): পিপিপির এই কারচুপির অভিযোগকে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অন্যায্য বলে তোপ দাগেন।

তারিক ফজল চৌধুরী (সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী): পিএমএল-এন-এর এই সাফল্যকে জনগণের সুস্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ জনরায় বলে অভিহিত করেন।

উপসংহার:
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পিএমএল-এন সরকার জনগণের কাছে দেওয়া উন্নয়ন ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে বলে দাবি করেছেন মরিয়ম। তবে প্রথম দফার ভোটের পর যেভাবে দুই শীর্ষ দল কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে নেমেছে, তাতে আগামী দিনগুলোতে পিওকে-র রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *